আপনার লিভার কে ভাল রাখতে এই কথাগুলি মেনে চলুন

5 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

কলকাতা। লিভার সম্পর্কিত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ১৯ এপ্রিল বিশ্ব লিভার দিবস পালন করা হয়। আমাদের দেহের পাচনতন্ত্রে যকৃৎ বা লিভার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি মস্তিষ্ক বাদে দেহের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সব চেয়ে জটিল অঙ্গ।  ওষুধ-সহ সব রকমের খাওয়া-দাওয়া লিভারের মধ্য দিয়ে চলে। লিভার যেমন রক্তকে শুদ্ধ করে, তেমনি আবার রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। এটি খাদ্য হজম করতে, পুষ্টি সঞ্চয় করতে এবং ব্যাকটেরিয়া অপসারণে সহায়তা করা-সহ আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আমাদের শরীরে। সহজ কথায় বলতে গেলে আমরা আমাদের লিভার ছাড়া বাঁচতে পারি না।

তবে শুধু একটি বিশেষ দিন পালিত করলেই হবে না, পাশাপাশি এর যত্নও নিতে হবে। লিভারের যত্ন না নিলে এর খারাপ হতে বেশি সময় লাগবে না। তাই লিভার সুস্থ রাখাটাও জরুরি। কারণ প্রতি দিন লিভার প্রায় ৮০০-১০০  মিলি পিত্ত সরবরাহ করে, এতে চর্বি হজমের জন্য প্রয়োজনীয় লবণ থাকে এবং তা রক্ত ​​থেকে বর্জ্য পদার্থ এবং বিষাক্ত পদার্থ দূর করে। যদি লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সময় মতো চিকিৎসা করানো উচিত। কারণ দেরি হয়ে গেলে লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সার হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং একটি খাওয়াদাওয়ার ভারসাম্যই লিভারের রোগ থেকে উপশম করতে সাহায্য করে।

দেহে লিভারের ভূমিকা:

লিভারের মূল কাজ হল, পিত্ত উৎপাদন (পিত্ত হজম বা চর্বির ক্ষয় হতে সহায়তা করে) এবং মলত্যাগ, বিলিরুবিন, কোলেস্টেরল, হরমোন, ড্রাগ এবং চর্বি, প্রোটিনের বিপাক জাতীয় পদার্থ এবং কার্বোহাইড্রেট শরীর থেকে বের করা (বর্জ্য অপসারণ, আমাদের শরীর থেকে টক্সিন অপসারণ)।

লিভার আমাদের হজমে সহায়তা করে, লিভার রক্তকে শুদ্ধ করে, এটি রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। লিভার ব্যাকটেরিয়া অপসারণে সহায়তা করে এবং অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করে। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। রক্ত ​​জমাট বাঁধতে সহায়তা করে, যা শরীরের কোথাও কেটে গেলে রক্তের অতিরিক্ত ক্ষয় রোধ করে। শরীরের অনেকগুলি প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করে। হজমে পিত্ত এবং এইডস অপসারণ করে। কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড তৈরিতে সহায়তা করে। অ্যালকোহল-সহ ওষুধ ও ড্রাগগুলি ভেঙে দেয় লিভার। দেহের ইনসুলিন এবং অন্যান্য হরমোনগুলি প্রতিহত করে।

লিভারের অসুখের উপসর্গ কী:

লিভারের সঠিক যত্ন না নিলে এটি নানা রকমের সমস্যা তৈরি করে। এছাড়াও, লিভার রোগ উত্তরাধিকারসূত্রেও অর্থাৎ জেনেটিকও হতে পারে। লিভারের অসুখের উপসর্গ সব সময়ে খুব একটা প্রকট হয় না, ফলে বোঝাও যায় না। লিভার ঠিক না থাকলে খিদে কমে যাওয়া, ঘন রঙের প্রস্রাব হওয়া, পা এবং গোড়ালির ফোলাভাব, বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, জ্বর এবং জন্ডিসের মতো উপসর্গ দেখা যায়।

অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং খাওয়াদাওয়ার বদ অভ্যাস থেকে হতে পারে। অ্যালকোহল এবং জাঙ্ক খাবার বেশি খাওয়ার ফলে হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, মেদ বৃদ্ধির ফলেও লিভারের অসুখ হতে পারে।

লিভারের রোগের লক্ষণসমূহ:

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO)-এর মতে লিভারের রোগগুলি ভারতে মৃত্যুর দশম সাধারণ কারণ। লিভারের রোগগুলি হেপাটাইটিস এ, বি, সি, অ্যালকোহল এবং ওষুধের কারণে হতে পারে। দূষিত খাবার, জল এবং মাদক সেবন করলেও হেপাটাইটিস হতে পারে। ‘হেপাটো’-র অর্থ লিভার এবং ‘আইটিস’ অর্থ প্রদাহ। সুতরাং, হেপাটাইটিস মানে লিভারের প্রদাহ।

জন্ডিস, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়া, বমিভাব, দুর্বলতা বা ক্লান্তি, উপরের ডান অথবা বা পেটে ফোলাভাব।

আপনি কি ভ্যাক্সিন নিয়েছেন বা নিতে চলেছেন, সুস্থ থাকতে ভ্যাকসিনের আগে ওপরে কী খাবেন

লিভার সুস্থ রাখার উপায়:

অ্যালকোহল বা মদ্যপান ছেড়ে দিতে হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে কারণ স্থূলত্ব নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার রোগের কারণ হতে পারে।

এমন খাবার খেতে হবে যাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যেমন তাজা ফলমূল এবং শাকসবজি, পুরো শস্যের রুটি, চাল এবং সিরিয়াল ইত্যাদি।

সংক্রামিত রক্ত বা অন্য কোনও শরীরের তরলের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলুন কারণ এটি হেপাটাইটিস ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে পারে।

অন্যের ব্যবহৃত রেজার, রেজার ব্লেড, টুথব্রাশ ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না। ভাগ করে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

রসুন, সবুজ শাকসবজি, আপেল, আখরোট, আঙ্গুর এবং গাজর খেতে হবে। খাবারে জলপাই তেল ব্যবহার করতে হবে। লেবুর রস ও গ্রিন টি পান করতে হবে। খাবারে হলুদ ব্যবহার করতে হবে।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article