নয়াদিল্লী: দিল্লির একটি আদালত মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর জলবায়ু কর্মী দিশা রবির জামিন মঞ্জুর করে এই Toolkit মামলায় বলেছেন যে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা বা Toolkit ডকুমেন্টের সম্পাদক হওয়া কোনও অপরাধ নয়।
কৃষকের প্রতিবাদ সম্পর্কে Toolkit ভাগ করে নেওয়ার অভিযোগে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিশা রবি(২২) কে দিল্লী পুলিশের সাইবার সেল বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশ আরও বলেছে যে তিনি খালিস্তানিপন্থী দল পোয়েটিক জাস্টিস ফাউন্ডেশনের (PJF) সহযোগিতা করেছেন।
এই Toolkitটি পরে কিশোর-কর্মী গ্রেটা থানবার্গ এবং আরও বেশ কয়েকজন টুইটারে ভাগ করে নিয়েছিল, বিষয়টি একটি বড় বিতর্কের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
স্রেফ সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করলেই কাউকে জেলে ভরে দেওয়া যায় না। Toolkit মামলায় পরিবেশকর্মী দিশা রবির জামিন মঞ্জুর করে মন্তব্য করল দিল্লির পটিয়ালা হাউস-কোর্ট। অতিরিক্ত দায়রা বিচারক ধর্মেন্দ্র রাণা বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকরাই সরকারের বিবেক রক্ষক। সরকারি নীতির সঙ্গে একমত না হলেই সেই নাগরিকদের জেলে পুরে দেওয়া যায় না।”
প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিল ঘিরে যে হিংসা মাথাচাড়া দিয়েছিল, তার সঙ্গে দিশার কি যোগ, তার সপক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করতে আগেও দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত তেমন কিছুই আদালতে তুলে ধরতে পারেনি দিল্লি পুলিশ। তাই কোন যুক্তিতে দিশাকে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় দিল্লি পুলিশকে। এ ভাবে কারও বাক্স্বাধীনতা এবং বিরোধী মত পোষণের খর্ব করা যায় না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে আদালত।
বিরোধীদের অনেকেরই অভিযোগ, সরকার বিরোধী মত পোষণ করলেই কাউকে দেশদ্রোহী হিসেবে দাগিয়ে দেওয়ার ‘রেওয়াজ’ গত কয়েক বছরে অহরহ ঘটতে দেখা গিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই বিচারক রাণার সাফ যুক্তি, ‘‘নিজে হাতে যারা এই দেশের ভিত্তিস্থাপন করেছিলেন, তাঁরা বাক্স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। বিরুদ্ধ মতকে যথাযথ সম্মান জানানোর কথা বলেছিলেন। সংবিধানের ১৯তম অনুচ্ছেদ সেই অধিকার সুনিশ্চিত করেছে। তাই সরকার এবং মন্ত্রীদের অহংবোধে আঘাত হলেই যে কারও বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা ঠুকে দেওয়া যায় না।’’
আরও পড়ুন : LEFT-CONGRESS এর মধ্যে আসন ঘোষণা করা হবে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর
দিশার জামিনের নির্দেশে বিচারক রাণা আরও বলেন, ‘‘মতানৈক্য, বিরুদ্ধাচরণ, ভিন্নমত পোষণ, সরকারি নীতির বিরোধিতা, এ সব কিছুরই গুরুত্ব রয়েছে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে। সুস্থ এবং প্রাণোচ্ছল গণতন্ত্র গড়ে তোলার জন্য সচেতন নাগরিকেরও প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের ৫ হাজার বছর পুরনো সভ্যতা বরাবরই সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে, বিরুদ্ধ মতকে কখনও খারিজ করেনি। ঋগ্বেদে বলা রয়েছে, সব দিক থেকেই মহৎ চিন্তা আসুক। অর্থাৎ সেখানেও বিরুদ্ধ মতকে সম্মান জানানো হয়েছে।’’
দিশা এবং সমাজকর্মী শান্তনু মুলুক এবং আইনজীবী নিকিতা জেকবের বিরুদ্ধে খালিস্তানপন্থী সংগঠন পোয়েটিক জাস্টিস ফাউন্ডেশন (PJF)-এর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে ওই Toolkit তৈরি করেছিলেন এবং তা নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, দিল্লি পুলিশের এই অভিযোগও খারিজ করে দেন বিচারক এবং বলেন একটি Toolkit হ’ল একটি নথি যা কোনও সমস্যা বোঝাতে তৈরি করা হয়। ইস্যুটি মোকাবেলায় কি করা দরকার সে সম্পর্কেও এটি তথ্য সরবরাহ করে।
