তৃণমূলের নৈরাজ্য এবং বিজেপির আগ্রাসন থেকে বাংলা কে বাঁচান : বুদ্ধদেব

3 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

কলকাতা। প্রথম দফার নির্বাচন শেষ। আগামী কাল দ্বিতীয় দফার ভোট। তার ঠিক আগে সংযুক্ত মোর্চার পক্ষে অডিয়ো-বার্তা দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। অসুস্থতা ও শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে ক্ষীণ হয়ে আসা কণ্ঠে সেই অডিয়ো বার্তাই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘‘আমার আবেদন সকলের কাছে, পশ্চিমবাংলাকে বিপদ থেকে রক্ষা করুন। গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ সরকার তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ইতিহাস তৈরি করুন।’’

নতুন প্রজন্মের উপরে ভরসা রেখে স্বৈরতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার জন্য লিখিত বার্তায় সোমবারই আবেদন জানিয়েছিলেন বুদ্ধ-বাবু। তাঁর মতে, TMC এর আমলে স্বৈরতন্ত্র ও নৈরাজ্য বর্তমান সমাজের উপর চেপে বসেছে। তার সাথে সাথে অন্য দিকে বেড়ে গিয়েছে BJP এর আগ্রাসন। তাই বাংলা এখন ভয়ংকর বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে। এমতাবস্থায় গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ জোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বুদ্ধ-বাবু।

দল পরিচালনার ভার সহকর্মীদের হাতে ছেড়ে অনেকদিন এগেই অন্তরালেই চলে গিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। অসুস্থতার কারণে তিনি ঘর বন্দিও। এ বারের অডিয়ো-বার্তায় দীর্ঘ দিন পরে তাঁর গলা আবার শোনা যাচ্ছে জনসমক্ষে। টানা কথা বলতে এখন সমস্যা হয়। থেমে থেমেই BJP এবং TMC কে নিশানা করেছেন বুদ্ধ-বাবু। তাঁর মতে, BJP ও TMC এর কারণে এক দিকে যেমন সমস্যা তৈরি হয়েছে, তেমনই বামেদের সামনে এসেছে সুযোগও।

বুদ্ধ-বাবুর কথায়, ‘‘TMC এর স্বৈর-তান্ত্রিক নৈরাজ্য এবং BJP এর আগ্রাসন রাজ্যে যেমন বিপদের পরিবেশ তৈরি করেছে, তেমনই এনে দিয়েছে এক সম্ভাবনা। বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং ধর্মনিরপেক্ষ একটি দল, তারা একটি যৌথ মঞ্চ তৈরি করেছে। এই নির্বাচনে সংগ্রাম করার জন্য। রাজ্যের যুব সমাজ এই সংগ্রামের সামনের সারিতে রয়েছে। তারা চায় শিল্প, তারা চায় শিক্ষা, তারা চায় সমাজের উন্নত মূল্যবোধ। নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বাম, গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির জয় হলে নতুন সরকার তৈরি হবে। যারা সাধারণ মানুষ, শ্রমিক, কৃষক, মানুষের জীবন-জীবিকার দাবিগুলি সম্পর্কে সতর্ক থেকে কাজ করবে।’’

নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরে এখন শ্মশানের নীরবতা : বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

সরকারে থাকার সময়ে বুদ্ধ-বাবুর কাছে অগ্রাধিকার ছিল শিল্প ও কর্মসংস্থান। ভোটের মুখে তাঁর বার্তাতেও উঠে এসেছে শিল্পে বেহাল দশার প্রসঙ্গ। বুদ্ধ-বাবু বলেছেন, ‘‘এ রাজ্যে শিল্প, শিল্পায়ন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। গত ১০ বছরে উল্লেখযোগ্য একটি শিল্পও আসেনি। শিক্ষায় নৈরাজ্য, স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, নাগরিক জীবনের চাহিদাগুলি অবহেলিত। সামাজিক জীবনে গণতন্ত্র আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষত, যুব সম্প্রদায় যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তাঁরা এখন আশাহীন, উদ্যোগ-হীন, হতাশায় জড়িয়ে পড়ছেন। দেশের অন্যান্য জায়গায় গিয়ে চাকরির সন্ধানে বাঁচার চেষ্টা করছেন।’’ এই পরিস্থিতি চলতে পারে না বলে মন্তব্য করে সংযুক্ত মোর্চাকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজেপি বাংলায় এলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন মমতা : আব্বাস সিদ্দিকী

তাঁর এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘বুদ্ধ-বাবু প্রমাণ করে দিলেন, তিনিই বাংলার মুখ। তাঁর বক্তব্য নিঃসন্দেহে সর্বত্র জোট-প্রার্থীদের উৎসাহিত করবে। কোনও কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার না করে ঐতিহ্যশালী বাংলায় তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সার কথা বলে দিয়েছেন।’’

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article