ওয়েব ডেস্ক: গত বিধানসভা ভোটে দলের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। তারপর কংগ্রেস কে নিসানা করেছেন মীনাক্ষী মুখার্জির ও বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের। এবার সেই কংগ্রেস কেই নিসানা করলেন নিশানা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়ের। এবার তিনি রাজ্য নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন। একইসঙ্গে দলের যাবতীয় কমিটি ভেঙে দেওয়ার দাবিও তুলেছেন রায়দিঘির প্রাক্তন বিধায়ক।
প্রাক্তন মন্ত্রীকে আলোচনার জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্ররা। সূত্রের খবর, আলোচনাতেও কান্তিবাবুর ‘বিদ্রোহে’র আগুনে জল ঢালা সম্ভব না হলে পালটা আক্রমণের পথে যাওয়া হবে। সেজন্য রায়দিঘির প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে জমা হওয়া অভিযোগের ফাইল ধুলো ঝেড়ে নতুন করে খোলার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
সিপিএমের এই বর্ষীয়ান নেতা জানান, ‘দলের কেন এই বিপর্যয় হল, সে বিষয়টি মূল্যায়ন করে দেখতে হবে। দল তো একটা সময়ে শুদ্ধিকরণের পথে হেঁটেছিল। সেগুলিকে নিয়েই ফের পুনরায় মূল্যায়ন করা দরকার।’ একইসঙ্গে তিনি জানান, এখনই দলে যত কমিটি আছে, সব ভেঙে দেওয়া উচিত। ফের শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসনেও জিততে পারেনি বামেরা। এই পরিস্থিতিতে দলের মধ্যেই রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, কান্তিবাবু সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে যে চিঠি দিয়েছেন, সেই চিঠি পেয়ে কান্তিবাবুকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার তাঁকে রাজ্য সিপিএম সদর দফতরে আসতে বলা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। ইতিমধ্যে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
রাজ্যবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী, বললেন মীনাক্ষী
প্রসঙ্গত, বাংলার বিধানসভা ভোটে বামেদের বিপর্যয়ের পরই পার্টির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে তোপ দেগেছিলেন কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। ক্ষোভ উগড়ে দেন সংযুক্ত মোর্চার অপর দুই সঙ্গী কংগ্রেস (Congress) এবং ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের (Indian Secular Front) বিরুদ্ধে। জোটের প্রয়োজন ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে তোলেন হাজারও প্রশ্ন। সূত্রের খবর, জেলা পার্টির সভাতেও নিজের ক্ষোভ চেপে রাখেননি। আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করান সূর্যকান্ত মিশ্র, বিমান বসুদের। বিতর্কের জল গড়ায় রাজ্য কমিটির বৈঠক পর্যন্ত। রাজ্য সম্পাদক ও বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন। সূর্যকান্ত মিশ্রর উদ্দেশে সকলের সামনেই কটূক্তি করেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে অবতীর্ণ হন দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক শমীক লাহিড়ী। তাঁর সঙ্গেও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় বলে সূত্রের খবর।
উপ-মেয়রের শাস্তির দাবিতে আসানসোলের পুর অফিস ঘেরাও মীনাক্ষীদের
কান্তিবাবু যে তাঁর আগের অবস্থান থেকে এক চুলও সরেননি, সেকথা ফের বুঝিয়ে দিলেন তিনি। সেইসময় তিনি বলেছিলেন, ‘মৌলবাদী শক্তিকে রুখে দিতে বাংলার মানুষ সচেতন পরিচয়ই দিয়েছেন। সংযুক্ত মোর্চা মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারেনি। গোল গোল কথা না বলে এর গঠনমূলক অনুসন্ধান দরকার।’ উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাধারণ মানুষ কি ভাবছে, সেকথা জানার জন্য এবার জনতার মতামত শুনতে চাইছে সিপিএম। কিন্তু যেখানে রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন নেতারা, সেখানে দলের মধ্যে হারের কারণ নিয়ে ভালোভাবে বিচার বিশ্লেষণ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।