Table of Contents
প্রায়শই মানুষ ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যায় ভোগেন, কিন্তু পরীক্ষা করে ডায়াবেটিস, মূত্রনালীর সংক্রমণ বা প্রোস্টেটের কোনো সমস্যা ধরা পড়ে না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণ কি? আসলে, এই সমস্যাটি শুধুমাত্র কোনো শারীরিক অসুস্থতার সাথে সম্পর্কিত নাও হতে পারে, বরং মূত্রাশয়ের কার্যকারিতার সাথেও সম্পর্কিত হতে পারে। যখন মূত্রাশয় অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন অল্প পরিমাণ প্রস্রাবেই এটি বারবার মস্তিষ্কে সংকেত পাঠাতে শুরু করে। এই অবস্থাকে ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার সিন্ড্রোম বলা হয়।
এই সমস্যাটি পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের মধ্যেই দেখা যায় এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে এর ঝুঁকি বাড়ে। এটি সঠিক সময়ে বোঝা এবং শনাক্ত করা জরুরি, যাতে এটি দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত না করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার সিন্ড্রোম কেন হয়, এর অন্যান্য লক্ষণগুলো কি কি এবং কীভাবে এটি প্রতিরোধ করা যায়।
ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার সিন্ড্রোমের কারণ কি?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার সিন্ড্রোমের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। মূত্রাশয়ের স্নায়ুর অতিরিক্ত সক্রিয়তাকে একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও, মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তাও এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। চা, কফি বা সফট ড্রিংকের মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলেও মূত্রাশয় সক্রিয় হতে পারে।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, হরমোনের পরিবর্তন, বিশেষ করে মহিলাদের মেনোপজের পরে, এই সমস্যার কারণ হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস, স্থূলতা এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাবও সহায়ক কারণ হতে পারে। কখনও কখনও, মেরুদণ্ড বা স্নায়ুতন্ত্র সম্পর্কিত সমস্যাও মূত্রাশয়ের সংকেতকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।
ঘন ঘন প্রস্রাব ছাড়াও এর অন্যান্য লক্ষণগুলো কি কি?
এই সমস্যায় শুধু ঘন ঘন প্রস্রাবই হয় না, বরং হঠাৎ করে প্রস্রাবের তীব্র তাগিদও অনুভূত হয়। কখনও কখনও প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাতে প্রস্রাবের জন্য বারবার ঘুম থেকে উঠতে হতে পারে। কিছু মানুষ এমনও অনুভব করেন যে তাদের মূত্রাশয় পুরোপুরি খালি হয়নি। এই অবস্থা একজন ব্যক্তির ঘুম, কাজ এবং সামাজিক জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।
আরও পড়ুন : শিশুর কানে কি তেল দেওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন?
কীভাবে এটি প্রতিরোধ করবেন
- ক্যাফেইন এবং সফট ড্রিংকের ব্যবহার কমিয়ে দিন।
- নিয়মিত বিরতিতে এবং পরিমিত পরিমাণে জল পান করুন। দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখা থেকে বিরত থাকুন।
- মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম ও ধ্যান করুন।
- শারীরিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- ব্লাডার ট্রেনিং এবং পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম চেষ্টা করুন।