Table of Contents
জীবনে কোনো না কোনো সময় সবারই সর্দি হয়। ঋতু পরিবর্তনের সময় এর ঝুঁকি বেশি থাকে, কিন্তু যদি আপনার প্রতি মাসেই এই সমস্যা হয়, তবে এটিকে উপেক্ষা করবেন না; এটি কোনো গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। ঘন ঘন সর্দি কোন রোগের ইঙ্গিত দেয় এবং কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন? এই বিষয়ে জানতে আমরা একজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলেছি।
দিল্লির মাওলানা আজাদ মেডিকেল কলেজ এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান ডঃ রবি মেহের এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। ডঃ রবি বলেন যে ঘন ঘন সর্দি হওয়াটা স্বাভাবিক নয়। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। এই সমস্যার কারণে ক্রমাগত হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া এবং নাকে চুলকানির মতো লক্ষণ দেখা দেয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন ভাইরাস সক্রিয় হয়ে শরীরে আক্রমণ করলে এমনটা হয়। আবহাওয়ার কারণে অ্যালার্জি থেকেই সর্দি হয়। যদি আপনার এই সমস্যা ক্রমাগত থাকে, তবে ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি।
সাইনাসের সমস্যাও একটি বড় কারণ।
ডঃ রবি ব্যাখ্যা করেন যে ঘন ঘন সর্দির কারণ সাইনাসের সমস্যাও হতে পারে। ক্রনিক সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে বারবার সর্দি হয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয়, যার ফলে সর্দির লক্ষণগুলো দীর্ঘকাল ধরে থাকে। এই পরিস্থিতিতেও ডাক্তারের কাছে যাওয়া জরুরি। সাইনাসের সমস্যার চিকিৎসা ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে করা যেতে পারে।
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
ঘন ঘন সর্দির অর্থ হতে পারে যে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে ভাইরাস সহজেই শরীরে আক্রমণ করে। এর ফলে ঘন ঘন সর্দি হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আপনাকে খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
কখন এই সমস্যা গুরুতর হয়ে ওঠে?
- সর্দি ২৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকলে
- সর্দির সাথে শ্বাসকষ্ট হলে
- গলার স্বরে ক্রমাগত পরিবর্তন বা কর্কশতা থাকলে
- ঘন ঘন জ্বর হলে
আরও পড়ুন : দই শুধু খাওয়ার জন্যই উপকারী নয়, এটি আপনার মুখ ও বাসনপত্রকেও উজ্জ্বল করে তুলবে।
কীভাবে এটি প্রতিরোধ করবেন?
- ধুলো এবং ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন
- ঠান্ডা জল পান করবেন না
- ঋতু পরিবর্তনের সময় স্বাস্থ্যের যত্ন নিন
- ধূমপান থেকে দূরে থাকুন