Table of Contents
মাথাব্যথা, পিঠের ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, বা ছোটখাটো আঘাতের জন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া আজকাল সাধারণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে এগুলি সেবন করে চলেছেন। যদিও এই ওষুধগুলি প্রাথমিকভাবে উপশম দেয়, ক্রমাগত ব্যবহার ধীরে ধীরে শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলির উপর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে কিডনি এবং লিভারের উপর চাপ বৃদ্ধি করে, কারণ এই অঙ্গগুলির মাধ্যমে ওষুধগুলি নির্গত হয়।
মানুষ প্রায়শই ধরে নেয় যে ব্যথানাশক ওষুধগুলি ব্যথা কমে যাওয়ার পরে নিরাপদ। এই অবহেলা পরবর্তীতে গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অতএব, ব্যথানাশক ওষুধগুলি শরীরে কীভাবে কাজ করে তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, আসুন জেনে নেওয়া যাক ব্যথানাশক কীভাবে কিডনি এবং লিভারকে প্রভাবিত করে এবং এর লক্ষণগুলি কি।
বেদনানাশক কীভাবে কিডনি এবং লিভারকে প্রভাবিত করে?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে ব্যথানাশক ওষুধ শরীরে প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে কাজ করে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে সেবন করলে কিডনির রক্তনালীগুলিকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমাতে পারে এবং তাদের কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে।
লিভারের কাজ হল ওষুধ ভেঙে শরীর থেকে বের করে দেওয়া। ব্যথানাশক ওষুধের ক্রমাগত ব্যবহার লিভারের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা লিভারের কোষগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, প্রদাহ, ফ্যাটি লিভার, বা লিভারের এনজাইম বৃদ্ধিও ঘটতে পারে। যাদের কিডনি বা লিভারের সমস্যা আগে থেকেই আছে তারা বিশেষ করে ঝুঁকিতে থাকে।
কিডনি এবং লিভারের ক্ষতির লক্ষণগুলি কি কি?
যদি কিডনি বা লিভার প্রভাবিত হয়, তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ঘন ঘন ক্লান্তি, পা বা মুখ ফুলে যাওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা বিবর্ণ হওয়া কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
আরও পড়ুন : ঘন ঘন চোখ দিয়ে জল পড়ার লক্ষণ কি? জানুন
লিভারের ক্ষতির ফলে ক্ষুধা হ্রাস, বমি বমি ভাব, পেটের উপরের অংশে ব্যথা এবং চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। কখনও কখনও, তীব্র ব্যথা ছাড়াই অভ্যন্তরীণ ক্ষতি হয়, তাই হালকা লক্ষণগুলি উপেক্ষা করা উচিত নয়।
এটি কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ খাবেন না।
- দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- প্রচুর জল পান করুন।
- যদি আপনার আগে থেকে কোনও শারীরিক সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনার ডাক্তারকে অবহিত করুন।
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালিয়ে যান।