রাজ্যে তৃনমূলের বিরুদ্ধে একচুল জাইগা ছাড়বে না বঙ্গ CPIM, স্পষ্ট বার্তা দিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র

3 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

ওয়েব ডেস্ক: এইবার বিধানসভা ভটে বামেদের বিপুল বিপর্যয়ের পর বিজেপি-বিরোধিতার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতির কথা দলের অন্দরে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। ‘বিজেমূলের’ মতো কিছু স্লোগান বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল বলেও কবুল করেছেন দলের নেতারা।

রাজ্যে তৃনমূলের বিরুদ্ধে একচুল জাইগা ছাড়বে না বঙ্গ cpim, স্পষ্ট বার্তা দিলেন সূর্যকান্ত মিশ্র

এই প্রসঙ্গে নেট মাধ্যমে দলের কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছিলেন,’আমরা বলেছিলাম বিজেমূল। কিন্তু রাজনীতিতে জুড়ে দিলে অসুবিধা হয়। জন্ম দেয় বিভ্রান্তির। কার সঙ্গে লড়াই, কে প্রধান শত্রু তা নিয়ে অস্পষ্ট তৈরি হয়।’ সেই অস্পষ্টতা কাটাতে কাকাবাবুর জন্মদিন উপলক্ষে পাঠচক্রের জন্য পার্টি-নোটে বলা হয়েছিল, ‘বিজেপি ও অন্য কোনও রাজনৈতিক দল এক নয়।

কিন্তু এইদিন মুজফ্ফর আহমেদের (কাকাবাবু) ১৩৩তম জন্মদিন পালনের মঞ্চ থেকে CPIM নেতৃত্বের বার্তা, বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই মতাদর্শ-গত। জাতীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে পরাস্ত করার লক্ষ্যে বিরোধী ঐক্যে তাঁরা থাকবেন। কিন্তু রাজ্যে যারা বিজেপি ও তৃণমূল, দু’দলেরই বিরুদ্ধে, তাদের একজোট করার লক্ষ্যে দলের কাজ চলবে। নির্বাচনে পরাজয় মানে এই রাজনৈতিক লক্ষ্য থেকে সরে আসা নয়— বুঝিয়ে দিয়েছেন CPIM শীর্ষ নেতৃত্ব।

কংগ্রেসের সাথে জোটই বাংলাই ভরাডুবির কারণ! কারাটপন্থীদের নিশানায় এবার বঙ্গ CPIM

সেখানে সিপিএমের তিন পলিটবুরো সদস্য বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্র ও মহম্মদ সেলিম দলের উদ্দেশে বার্তা দেন, কঠিন সময়ে আরও দৃঢ়তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে হবে কমিউনিস্ট কর্মীদের। তরুণ প্রজন্মের বড় অংশ এই দুর্দিনেও ‘রেড ভলান্টিয়ার্স’-সহ নানা জনসেবামূলক কাজে আসছেন। তাঁদের মধ্যে থেকে যোগ্য কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতির ‘বাস্তবতা’ ব্যাখ্যা করেছেন বিমান-বাবুরা।

অটুট থাকছে মোর্চা, ‘অভিমানী’ নওশাদ কে আশ্বাস দিলেন বিমান

দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্য-বাবু বলেন, ‘‘সারা দেশে সব বিরোধী একজোট হচ্ছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সেটা ভাল উদ্যোগ। জাতীয় স্তরে এমন ঐক্য হলেও আঞ্চলিক দলগুলোর আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে।’’ সূর্যবাবুর বক্তব্য, ‘‘পরাজিত আমরা হয়েছি। কিন্তু যে ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে বাংলায় নির্বাচন করেছি, সেটা ঠিক। বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে যারা লড়তে চান, তাঁদের একজোট হতে হবে। তৃণমূলের প্রতি যারা নরম মনোভাবের কথা বলছেন, তাঁরা শাসক দলের বিরুদ্ধে থাকা ক্ষোভের উপাদানগুলিকে অস্বীকার করছেন।’’ বিজেপি-বিরোধিতার নামে তৃণমূলের ‘অন্যায়’ থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকলে তাতে বিজেপির দিকেই বেশি পরিসর চলে যাবে বলে আশঙ্কা সিপিএমের।

ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতার বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী না দিলে প্রার্থী দেবে CPIM

তিনি আর বলেন, “বিজেমূল-টিজেমূল এসব খারাপ! আচ্ছা নিজাম প্যালেস থেকে সিবিআই-ইডি হয়ে আমাদের রাজ্যে সংকর প্রজাতির রাজনীতি তৈরি হয়নি? একে কি বলবেন আপনারা? এদিক থেকে ওদিক যাচ্ছে না! আমরা রাজনীতির জগতে বলিনি কংশাল। কংশাল মানে কংগ্রেস ও নকশাল কি এক হয়ে গিয়েছে?”

মোঃ সেলিমের উদাহরণ, ‘‘সত্তরের দশকে বাংলায় ‘কংশাল’ কথাটা চালু হয়। তার মানে কি কংগ্রেস আর নকশাল এক ছিল? সুকুমার রায় ‘বকচ্ছপ’ বা ‘হাঁসজারু’র কথা লিখেছিলেন। বক আর কচ্ছপ কি কখনও এক হতে পারে? একটা বিশেষ পরিস্থিতি বোঝাতে এমন শব্দের প্রচলন হয়।’’

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
TAGGED:
Share This Article