ওয়েব ডেস্ক: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ফের একবার বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাল সিভিক ভলান্টিয়ারদের পদোন্নতি দিয়ে পুলিশে পরিণত করার ঘোষণা করেন। একজন সিভিক ভলান্টিয়ার যদি ভালো কাজ করেন, তাহলে তিনি স্থায়ী চাকরির সুযোগ পাবেন। এমনই পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের।
নবান্ন সূত্রে খবর, সোমবার রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এমন প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে কোথায় এবং কারা এই সুযোগ পাবেন, এর জন্য কিছু শর্তও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি হবে না এবং তা হলে, কবে নাগাদ সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নবান্ন সূত্রে খবর, স্বরাষ্ট্র দফতরের আধিকারিকদের বিষয়টি নিজের হাতে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, এর জন্য রাজ্য সচিবালয়ে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজের ভিত্তিতে ভাল সিভিক ভলান্টিয়ার মূল্যায়ন হবে। দেখা হবে তারা প্রতিটি কাজ দায়িত্বের সাথে করছেন কি না। দ্বিতীয়ত, থানায় কনস্টেবলের পদ খালি থাকলেই এই ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে। সেখানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যাদের নাম সুপারিশ করবে তাদের এই সুযোগ দেওয়া হবে। এই দায়িত্ব প্রধানত জেলার পুলিশ সুপারের উপর বর্তায়।
এখন কলকাতা সহ জেলাগুলিতে, সিভিক ভলান্টিয়াররা মোতায়েন করা হয়েছে বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করছে। অনেক জায়গায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এর পাশাপাশি সিভিক ভলান্টিয়াররা তাদের পদের অপব্যবহার করেন বলেও অনেক অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের বিশ্বাস এখন পদোন্নতি দেওয়া হলে অনেকেই তাদের কাজে মনোযোগ দেবেন। এর প্রভাব পড়বে পুরো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।
এই নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে? এই বিষয়ে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কথার কোনও মানে আছে বলে মনে হয় না। ভোট ভেবে বলেন। হাল ভেবে বলেন’। সঙ্গে তার প্রশ্ন, ‘নিয়োগ নাকি করবেন পঞ্চায়েত ভোটের পরে, পঞ্চায়েত ভোটের আগে বললেন কেন? প্রভাবিত করার জন্য? এরা ছিল সিভিক পুলিস। পুলিসটা বাদ দিয়ে তাদের সিভিক ভলান্টিয়ার করল এই সরকার। এখন বলছে পুলিস কনস্টেবল পদে নিয়ে আসব, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে’। শুধু তাই নয়, টাকা বিনিময়ে এই নিয়োগের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।