কলকাতা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৮ দফা বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে ৪ দফায় নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। পঞ্ছম দফার ভোট আগামী ১৭ তারিখ। পঞ্চম দফার আগে জোর কদমে চলছে প্রচার। চলছে মিটিং, মিছিল ও রোড শো। বিভিন্ন সভা সমাবেশে মানুষ সামাজিক দুরত্ব তো দূরের কথা, মাস্ক পরাও প্রয়োজন মনে করছেন না। এদিকে রাজ্যে দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ। এই বিষয়ে আদালতে এক জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে। এরপরেই নির্বাচনের সময়ে কোভিড বিধি মানা হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চায়।
আদালতের হস্তক্ষেপের পর রাজ্যের এবার নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে আগামী ১৬ এপ্রিল প্রচারের কৌশল নিয়ে সর্বদল বৈঠকের ডাক দিল নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়, তা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে চান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
প্রত্যেক রাজনৈতিক দলকেই বৈঠকে যোগ দানের জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে চিঠি লিখে প্রত্যেক রাজনৈতিক দল থেকে একজন করে প্রতিনিধিকে এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।
ঘরে বসে ডাউনলোড করুন আপনার ডিজিটাল ভোটার স্লিপ ও ভোটার কার্ড
এই সপ্তাহের শুরুতেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়েছিল। আদালতের তরফে জানানো হয়, সভা, জনসমাবেশে ভিড় রুখতে জেলাশাসক ও কমিশনকেই দায়িত্ব নিতে হবে। প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা জারি করা যেতে পারে। কমিশন এই বিষয়ে কী ভাবছে তা আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে বলেছে আদালত। তাই আর আগে এই সর্বদল বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে কমিশন। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, তাহলে সভা, সমাবেশের বিকল্প কোনও পথ কি বেছে নেওয়া হতে পারে আগামী দিনে? অথবা জনসভার বিকল্প হিসেবে কি নির্বাচনী পর্বে উঠে আসতে চলেছে ভার্চুয়াল সভা বা অনলাইন রাজনৈতিক বিতর্ক? এই সমস্ত কিছুর উত্তর পাওয়া যাবে ১৬ তারিখের পর।