ওয়েব ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুয়ারে সরকার প্রকল্প নিয়ে আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এই প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য সরকারের প্রকল্পের সুবিধা সবাই যাতে সহজে পেতে পারে। শুধু তাই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দিনের পর দিন জমে থাকা কাজ যাতে দ্রুত শেষ হয় সেই বিষয়ে নজর দেওয়া হচ্ছে।
আবার আজ থেকে চালু হয়েছে এই দুয়ারে সরকার ক্যাম্প। সেই মত রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতে ক্যাম্প খোলা হয়েছে ক্যাম্প। যেখানে বসে আছেন সরকারি আধিকারিকরা। প্রয়োজনে সেখানেই মিটিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন আধিকারিকরা। যদি সেখানে সম্ভব না হয় তাহলে কোথায় গেলে সেই সমাধান হওয়া সম্ভব সেও সরকারি আধিকারিকরা জানিয়ে দিচ্ছেন। প্রত্যেকদিন কতগুলি সমস্যার সমাধান হচ্ছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট চলে আসছে নবান্নে।
কি কি সুবিধা পাওয়া যাবে দুয়ারে সরকার থেকে?
১) স্বাস্থ্যসাথী কার্ড
স্বাস্থ্য সাথী কার্ড আছে এমন পরিবারগুলির সদস্যরা বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে একাধিক সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো যাবে। দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্যে আবেদন করা যাবে।
২ ) কন্যাশ্রী
কন্যাশ্রী প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারকে নগদ সহায়তার মাধ্যমে মেয়েদের জীবন ও অবস্থার উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গের সরকার কর্তৃক গৃহীত একটি উদ্যোগ, যাতে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কোন পরিবার আঠারো বৎসর বয়সের আগে তাদের মেয়ে সন্তানের বিয়ের ব্যবস্থা না করে।
কন্যাশ্রী এক- ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সের মেয়েদের বার্ষিক ১০০০ / – টাকা প্রদান করা হয় (অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশুনা করা বা প্রতিবছর যে তারা পড়াশুনায় রয়েছেন, যদি তারা সেই সময় অবিবাহিত থাকে তবে)।
‘এক নেতা-এক পদ’ যুগ শুরু তৃনমূলে, হল বিপুল সাংগঠনিক রদবদল
৩ ) রূপশ্রী
আর্থিক দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক কন্যাদের বিবাহ কালে এককালীন ২৫০০০ টাকা অনুদানের ঘোষণা করেছেন। এই অনুদান রূপশ্রী প্রকল্প নামে দেওয়া হয়।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো মেয়েদের বিবাহের সময় দরিদ্র পরিবার যে আর্থিক সমস্যার সমাধান করা। এই প্রকল্পের জন্য ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। যে পরিবারের আয় দেড় লক্ষ টাকার কম তাঁরা আবেদন জানাতে পারবেন। তবে একবার এই প্রকল্পের জন্যে টাকা দেবে সরকার। দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।
৪) খাদ্যসাথী
রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কিংবা মোবাইল নম্বর যুক্ত করা না হলে, কিংবা নতুন ডিজিটাল রেশন কার্ড না পেলে দুয়ারে সরকারে গিয়ে সরকারি আধিকারিকদের জানালে তাঁরা সাহায্য করতে পারেন।
৫) শিক্ষাশ্রী
পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির তফসিলি জাতি এবং আদিবাসী পড়ুয়াদের জন্যে বছরে ৮০০ টাকা স্কলারশিপের সুবিধা পাওয়া যায়। দুয়ারে সরকারের ক্যাম্পে গিয়ে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্যে ফর্ম নিতে হবে।
কংগ্রেস ছেড়ে তৃনমূলে যোগ দিলেন অসমের প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব
৬) ওবিসি শংসাপত্র
তফসিলি জাতি , আদিবাসী এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের জন্যে নির্দিষ্ট সুযোগ সুবিধাগুলি পাওয়ার জন্যে এই শংসাপত্র সাহায্য করবে। দুয়ারে সরকারে এর সুবিধা পাওয়া যাবে।
৭) জয় জোহার-পেনশন প্রকল্প
আদিবাসী মানুষের জন্যে জয় জোহার এবং তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষের জন্যে তপশিলি বন্ধু প্রকল্প চালু হয়েছে। এই প্রকল্পে ৬০ বছর কিংবা তাঁর বেশি মানুষদের রাজ্য সরকারের তরফে মাসে ১০০০ টাকা করে পেনশন দেওয়া হয়। এই পেনশনের সুবিধা পেতে দুয়ারে সরকার প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন।
৮) মানবিক
এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা মাসিক পেনশন হিসাবে পেয়ে যেতে পারে ১০০০ টাকা। যারা অনলাইনে আবেদনপত্র জমা করতে অক্ষম তাদের জন্য অফলাইনেও আবেদন জানাতে পারবেন। দুয়ারে সরকারে গিয়ে ফর্ম নিয়ে আবেদন জানাতে পারবেন।
৯) ১০০ দিন কাজ
১০০ দিনের কাজ পেতে চাইলেও দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে যেতে পারেন। সেখান থেকে সাহায্য পেতে পারেন।
কলকাতা সহ সারাদেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীনতা দিবস পালন করল CPIM
১০) ঐক্যশ্রীএর সুবিধা মিলবে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে
রাজ্যের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎের কথা একাধিক স্কলারশিপের কথা বলা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের তরফে এই স্কলারশিপ দেওয়া হয়। মূলত আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের অনেক সময়ে অর্থের কারণে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যায়। মেধা থেকেও যাতে শুধু অর্থের কারণে পড়াশুনা না বন্ধ হয়ে যায় সেদিকে তাকিয়ে এই স্কলারশিপ ঘোষণা করা হয়েছে।
পড়াশুনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে সরকারের তরফে একাধিক স্কলারশিপের ঘোষণা করা হয়েছে। যার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্কলারশিপ ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ।তবে এই প্রকল্প সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পড়ুয়াদের জন্যে।
যেখানে আর্থিক ভাবে সাহায্য করা হয় পড়ুয়াদের। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে ফর্ম নিয়ে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্যে আবেদন জানাতে পারেন।
১১) নতুন প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এর সুবিধা মিলবে
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্যে ফর্ম পাওয়া যাবে দুয়ারে সরকারে থাকা ক্যাম্প থেকে।
পশ্চিমবঙ্গ স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড কার্ড প্রকল্প, কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্প, বিনামূল্যে সামাজিক সুরক্ষা যোজনা, কৃষি জমির মিউটেশন এবং জমির রেকর্ডে ছোটখাটো ভুলের সংশোধন। ব্যাঙ্কে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রেও দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে সাহায্য পাওয়া যেতে পারে। দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে একগুচ্ছ সরকারি সুবিধার ফর্ম পাওয়া যাবে। কিন্তু কোনও জালিয়াতি হবে না। এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যেক ফর্মে থাকবে ইউনিক নম্বর। ফলে জালিয়াতির কোনও জায়গা নেই।
