West Bengal Assembly Election 2021 : বিপুল শক্তির প্রদর্শনীতে CPI(M)র নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট, CONGRESS এবং আব্বাস সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) রবিবার কলকাতার আইকনিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি সমাবেশ করেছে। এই প্রথম একটি যৌথ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই সমাবেশের মূল বিষয় ছিল ফুরফুরার শরিফের আব্বাস সিদ্দিকীর উপস্থিতি।
ব্রিগেডে জোটের মঞ্চে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (ISF) উপস্থিতির পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নানা মহল থেকে শুরু হয়েছে সমালোচনা। প্রশ্ন উঠেছে, বাম ও CONGRESS কেন ‘মৌলবাদী শক্তি’র সঙ্গে হাত মেলাল? CONGRESS এর অন্দরেও আনন্দ শর্মার মতো নেতা এই জোটের বিরুদ্ধে সওয়াল করেছেন। সেই সমালোচনার জবাব দিতে এ বার আসরে নামলেন বাম ও CONGRESS নেতৃত্ব। তাঁদের পাল্টা যুক্তি, মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে গাঁটছড়ার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা ঠিক নয়।
বিধান ভবনে সোমবার সিপিএম ও CONGRESSের এই সংক্রান্ত বৈঠকের পরে বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, ‘‘যারা এই সমালোচনা করছেন, তাঁরা সবটা না জেনেই বলছেন। ISF ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব করছে, এমন নয়। যদি সেই ভাবে পরিচয় দেখতেই হয়, তা হলে বলতে হয়, তারা তফসিলি জাতি, জনজাতি, দলিত বা সাধারণ প্রার্থীও দেবে। তার জন্য প্রার্থী তালিকা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘‘স্বাধীনতার সময় বা তার পর থেকে বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠন যে ভাবে চলেছে, তার সঙ্গে ISF এর ভাবনা বা পথ এক নয়।’’
তবে বাম নেতাদের একাংশ মানছেন, ব্রিগেডের সমাবেশে তাঁদের তরফে একটা ‘ভুল’ও ছিল। ওই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ISF এর সভাপতি শিমুল সোরেন। তাঁকে বক্তৃতা করার সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। এক বাম নেতার কথায়, ‘‘এত জন বক্তা ব্রিগেডে বক্তৃতা করলেন, সেখানে শিমুলের মতো কাউকে সুযোগ দেওয়াই যেত। তা হলে আব্বাস সিদ্দিকিকে দেখে যে শুধু সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটা অনেকটা কাটানো যেত। সমাবেশ চলাকালীন এটা মাথায় আসেনি!’’
CONGRESS নেতা আনন্দ এ দিনই মন্তব্য করেছেন, ISF এর মতো শক্তির সঙ্গে CONGRESSের সমঝোতা নেহরু-গাঁধীর ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণার সঙ্গে খাপ খায় না। মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে CONGRESS কখনও বাছ-বিচার করতে পারে না। তাঁর আরও মন্তব্য, ‘‘ওই মঞ্চে বাংলার প্রদেশ CONGRESS সভাপতির উপস্থিতি ও সমর্থন বেদনাদায়ক ও লজ্জাজনক! তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।’’
পত্রপাঠ এই মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন প্রদেশ CONGRESS সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁরও সাফ কথা, ‘‘এই মন্তব্য বেদনাদায়ক ও দুর্ভাগ্যজনক! সংযুক্ত মোর্চা গড়ে ওঠায় বাংলায় যাদের অসুবিধা হচ্ছে, তাঁদের কেউ হয়তো ওঁকে বিভ্রান্ত করে থাকতে পারেন। সীতারাম ইয়েচুরি, ডি রাজা, বিমান বসুরা সকলেই মঞ্চে ছিলেন। তাঁরা সবাই মৌলবাদী শক্তির হাত ধরলেন, এমন ধারণা কি করে হল, ভাবতে অদ্ভুত লাগছে। যাদের বিরুদ্ধে আনন্দ শর্মাদের বলা উচিত, তাদের বিরুদ্ধে না বলে উনি নিশানা করছেন তাদের, যারা মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে!’’ কমিউনিস্টদের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করে অধীরবাবুর আরও বক্তব্য, ‘‘কি ভাবে চলতে হবে, সেটা কোনও ব্যক্তির বিষয় নয়। AICC-র সঙ্গে কথা বলে প্রদেশ CONGRESS পথ ঠিক করে এবং বাংলায় আমরা সেটাই করছি।’’
জোটে ৯২ আসনে লড়বে কংগ্রেস, ২ দিনের মধ্যেই ঘোষণা হবে প্রার্থী তালিকা
আনন্দের মন্তব্য প্রসঙ্গে বাংলায় AICC-র পর্যবেক্ষক জিতিন প্রসাদও বলেছেন, ‘‘দল ও কর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই জোটের সিদ্ধান্ত হয়। এখন ভোট-মুখী রাজ্যগুলিতে CONGRESSকে শক্তিশালী করাই সকলের কাজ হওয়া উচিত।’’
প্রসঙ্গত, ব্রিগেডের অবসরেই রবিবার আব্বাসদের সঙ্গে কথা বলে গিয়েছিলেন ছত্তিসগড়ের CONGRESS সরকারের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল এবং জিতিন। তাঁদের কথা হয়েছিল CPI(M)র ইয়েচুরি ও মহম্মদ সেলিমের সঙ্গেও। AICC-র বার্তা নিয়েই ত্রিপাক্ষিক জোটের প্রক্রিয়ায় এ দিন এগিয়েছে প্রদেশ CONGRESS।
দুর্গাপুর পূর্ব থেকে LEFT-CONGRESS জোটের প্রার্থী কি এবার ঐশী ঘোষ
এই বার CPI(M) এর তরুণ নেতাদের উপর ফোকাস
বিশেষত পশ্চিমবঙ্গে দলের তরুণ নেতাদের পর্যাপ্ত গুরুত্ব এবং প্রকাশ না করার জন্য বামফ্রন্টের প্রায়শই সমালোচনা করা হয়। জনসভা ও সমাবেশ চলাকালীন সিনিয়র এবং বয়স্ক নেতারা সর্বদা কেন্দ্রের মঞ্চে অবস্থান নেন, গান গাওয়া এবং স্লোগান দেওয়ার জন্য সীমাবদ্ধ থাকা যুবক দের মঞ্চে জায়গা সরবরাহ করেন না।
পরিবর্তনের জন্য, বামরা তরুণ নেতাদের দলের পুরানো প্রহরীদের সাথে স্থান ভাগ করার অনুমতি দিয়েছিল। SFI নেতা ও JNU সভাপতি ঐশী ঘোষ, বামপন্থী অভিনেতা বাদশা মৈত্রকে এবং সমাবেশ চলাকালীন কথা বলতে এবং বক্তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। এমনকি জনতার মধ্যে হাজার হাজার তরুণ বাম কর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা তরুণ কমরেডদের প্রতি দলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।