আপনার পেট আপনার শক্তির মাত্রা, বিপাক এবং এমনকি আপনার মেজাজ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে খালি পেটে(Empty Stomach) কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস আপনার স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? আপনি যদি নাস্তা এড়িয়ে যান বা কয়েক ঘণ্টা ধরে কিছু খাননি, তাহলে এখানে ৮টি জিনিস দেওয়া হল যা আপনার পেট খালি থাকাকালীন করা এড়িয়ে চলা উচিত।
১. সকালে প্রথম জিনিস কফি পান
যদিও কফি সকালের অভ্যাসের মতো মনে হতে পারে, খালি পেটে এটি পান করলে অ্যাসিড উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা এবং এমনকি বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে। এটি উদ্বেগের মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি আপনার ক্যাফেইন তাড়াতাড়ি ঠিক করতে হয়, তাহলে এটি একটি কলা বা এক মুঠো বাদামের মতো হালকা খাবারের সাথে যুক্ত করুন।
২. না খেয়ে তীব্র ব্যায়াম
খালি পেটে ব্যায়াম করলে, বিশেষ করে যদি তা বেশি তীব্র হয়, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে, মাথা ঘোরা এবং ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। আপনার শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য জ্বালানির প্রয়োজন। ফল বা এনার্জি বারের মতো একটি ছোট প্রাক-ওয়ার্কআউট স্ন্যাক আপনাকে ভারী বোধ না করে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রদান করতে পারে।
৩. ওষুধ বা পরিপূরক গ্রহণ
অনেক ওষুধ, যেমন ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, বা আয়রন পরিপূরক, খাবার ছাড়া গ্রহণ করলে পেটের আস্তরণে জ্বালাপোড়া হতে পারে। এর ফলে বমি বমি ভাব, অ্যাসিডিটি এমনকি সময়ের সাথে সাথে আলসারও হতে পারে। সর্বদা আপনার ডাক্তারের নির্দেশ অনুসরণ করুন এবং বিশেষভাবে পরামর্শ না দেওয়া পর্যন্ত খালি পেটে বড়ি খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
আরও পড়ুন : শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের সাথে মোকাবিলার করার ৭ সহজ উপায় জানুন
৪. অতিরিক্ত ক্যাফেইন
আপনার পেট খালি থাকলে অতিরিক্ত ক্যাফেইন রক্তপ্রবাহে দ্রুত শোষিত হয়, যার ফলে এর প্রভাব তীব্র হয়। এটি আপনাকে কেবল দ্রুত নেশাগ্রস্ত করে না বরং পেটের আস্তরণেও জ্বালাপোড়া করে এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভারের ক্ষতি করতে পারে। পান করার আগে সর্বদা কিছু খান।
৫. মুদিখানার কেনাকাটা করা
খালি পেটে কেনাকাটা করা আপনার মানিব্যাগ এবং আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ক্ষুধা আপনার পছন্দগুলিকে প্রভাবিত করে, যার ফলে আপনি উচ্চ-ক্যালোরি, প্রক্রিয়াজাত এবং অপ্রয়োজনীয় খাবার কিনতে বেশি আগ্রহী হন। খাবারের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দোকানে যাওয়ার আগে অল্প পরিমাণে খাবার বা স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
৬. গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া
হ্যাঁ, আপনার মস্তিষ্কেরও খাবারের প্রয়োজন! গবেষণায় দেখা গেছে যে ক্ষুধা মেজাজ, ধৈর্য এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। আপনার রক্তে শর্করার পরিমাণ কম থাকলে আপনি আবেগপ্রবণ বা বিরক্তির সাথে কাজ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বড় কাজ বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার খান।
আরও পড়ুন : আজই দাঁতের যত্ন নিন, জেনে নিন ১০টি সহজ এবং নির্ভরযোগ্য টিপস
৭. সাইট্রাস ফল বা জুস খাওয়া
কমলা বা আঙ্গুরের মতো সাইট্রাস ফল অ্যাসিডিক প্রকৃতির। খালি পেটে এগুলি খেলে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যাসিড রিফ্লাক্স, গ্যাস্ট্রাইটিস বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। সঠিক খাবারের পরে এগুলি খাওয়া বা ওটমিলের মতো নিরপেক্ষ কিছুর সাথে যুক্ত করা ভাল।
৮. নিয়মিত নাস্তা এড়িয়ে যাওয়া
নাস্তা এড়িয়ে যাওয়া আপনার শরীরকে দীর্ঘক্ষণ উপবাসে থাকতে বাধ্য করে, বিপাককে ধীর করে দেয় এবং দিনের শেষের দিকে খাবারের ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। এটি ঘনত্ব এবং শক্তির স্তরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে সকালে। একটি স্বাস্থ্যকর নাস্তা আপনার দিনকে শারীরিক এবং মানসিক উভয়ভাবেই শুরু করতে সাহায্য করে।
আপনার শরীর তখনই সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে যখন এটি সঠিকভাবে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিছু অভ্যাস ক্ষতিকারক বলে মনে হলেও, খালি পেটে এগুলি করলে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার রুটিন সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং দিন শুরু করার আগে বা গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু করার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার পেট খালি নেই।
Disclaimer: এই নিবন্ধে উল্লিখিত পদ্ধতি এবং পরামর্শগুলি সাধারণ স্বাস্থ্য জ্ঞানের ভিত্তিতে লেখা, এটি অনুসরণ করার আগে একজন ডাক্তার বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।