মশা তাড়াতে কি আপনি মশার ধূপকাঠি ব্যবহার করেন? এগুলো অসুস্থতার কারণ হতে পারে

বাড়িতে মশা তাড়াতে মশার ধূপকাঠি এবং অন্যান্য মশা নিবারক বা রিপেলেন্ট প্রায়শই ব্যবহৃত হয়; তবে, এমন প্রতিটি পণ্যই যে সম্পূর্ণ নিরাপদ, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। HICA-এর সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য চলুন বিস্তারিত তথ্যে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

বাড়িতে মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে অনেকেই মশার ধূপকাঠি, কয়েল এবং ধোঁয়া সৃষ্টিকারী মশা নিবারক ব্যবহার করেন। যদিও এই পণ্যগুলো মশা দূরে রাখতে সহায়তা করে, তবুও প্রতিটি পণ্যই যে সম্পূর্ণ নিরাপদ হবে—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ধোঁয়া—বিশেষ করে যেসব পণ্যের সরকারি অনুমোদন নেই কিংবা যেগুলো প্রচলিত ব্র্যান্ডের বাইরের (অপ্রচলিত ব্র্যান্ডের)—তা শ্বাসতন্ত্র এবং ফুসফুসের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এটি বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং হাঁপানি বা অ্যালার্জিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সম্প্রতি ‘জাতীয় ডেঙ্গু দিবস’ উপলক্ষে প্রকাশিত HICA-এর একটি সমীক্ষা এই উদ্বেগগুলোকে আরও জোরালো করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসংখ্য পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদিন এই ধরনের পণ্য ব্যবহার করে আসছে—যদিও এদের মধ্যে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক সরকারি নিবন্ধন নম্বরই নেই। এমতাবস্থায়, কোন পণ্যগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ তা চিহ্নিত করা, মানুষের শরীরের ওপর এদের ধোঁয়ার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানা এবং নিজেদের সুরক্ষার জন্য কি কি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন—তা জানা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনে কি উঠে এসেছে এবং কোন মশা নিবারকগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ?

‘হোম ইনসেক্ট কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন’ (HICA)-এর উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষাটি বাজার গবেষণা সংস্থা ‘কান্তার’ (Kantar)-এর মাধ্যমে দেশের ১২টি শহরে সম্পন্ন করা হয়েছে। এই গবেষণায় ১,২৬৪টি পরিবার এবং ৪০৫ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের ৭০ শতাংশই অনিয়ন্ত্রিত বা অনুমোদনহীন মশার ধূপকাঠিকে শ্বাসতন্ত্রের জন্য একটি বড় বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; অন্যদিকে, ৬৭ শতাংশ চিকিৎসক মনে করেন যে, এই পণ্যগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া সিগারেটের ধোঁয়ার মতোই ক্ষতিকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব পণ্যে ‘সেন্ট্রাল ইনসেক্টিসাইডস রেজিস্ট্রেশন’ (CIR) নম্বর উল্লেখ থাকে না, ভোক্তাদের উচিত সেই পণ্যগুলো এড়িয়ে চলা। লেবেলবিহীন স্থানীয় এবং অপ্রচলিত ব্র্যান্ডের পণ্যগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে; কারণ এগুলোর উৎপাদনে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রায়শই অস্পষ্ট থাকে কিংবা প্রকাশ করা হয় না।

মশা তাড়ানোর ধূপকাঠি থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য কি কি প্রভাব পড়তে পারে?

  • ধোঁয়া নির্গমনকারী মশা তাড়ানোর ধূপকাঠি একটানা জ্বালালে শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকে অস্বস্তি এবং গলায় ব্যথা হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে চোখ জ্বালাপোড়া এবং মাথাব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
  • অ্যাজমা (হাঁপানি), অ্যালার্জি বা সিওপিডি (COPD)-তে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধোঁয়া রোগের উপসর্গগুলোকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
  • শিশু এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের সংবেদনশীল ফুসফুসের ওপর এর প্রভাব বিশেষভাবে মারাত্মক হতে পারে।

আরও পড়ুন : হেয়ার বোটক্স কি? ট্রিটমেন্ট নেওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি

নিরাপদে থাকার জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? চিকিৎসকরাই বা কি পরামর্শ দেন?

মশা তাড়ানোর কোনো পণ্য কেনার সময় প্যাকেজিংয়ের ওপর উল্লিখিত ‘CIR নিবন্ধন নম্বর’টি অবশ্যই যাচাই করে নিন। লেবেলহীন বা নামহীন (unbranded) পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকুন। ঘরের ভেতর পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন এবং যেসব ঘরে শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তিরা অবস্থান করেন, সেখানে একটানা ধূপকাঠি জ্বালানো থেকে বিরত থাকুন।

এস.এল. রাহেজা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সঞ্জিত শশীধরনের মতে, কেবল সেইসব পণ্যই ব্যবহার করা উচিত যা সরকারি অনুমোদন লাভ করেছে এবং যার নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মশা তাড়ানোর বিকল্প পদ্ধতি—যেমন মশারী ব্যবহার করা কিংবা জানালায় জালি লাগানো—সেগুলোও বেশ কার্যকর হতে পারে।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article