শিশুদের মধ্যে পেটের কৃমির সমস্যা ক্রমশ সাধারণ হয়ে উঠছে এবং এটি প্রায়শই পেটে তীব্র ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবুও, বাবা-মায়েরা অনেক সময় এই সমস্যাটিকে উপেক্ষা করেন; তারা এটিকে একটি সাধারণ অসুস্থতা মনে করে উড়িয়ে দেন এবং বুঝতে পারেন না যে কৃমিই হলো এর মূল কারণ। অপরিষ্কার হাতে খাওয়া, মাটিতে খেলাধুলা করা, না ধুয়ে ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া কিংবা দূষিত জল পান করা—এগুলোই শিশুদের পেটে কৃমির সংক্রমণের প্রধান কারণ। একবার শরীরের ভেতরে প্রবেশ করার পর, এই কৃমিগুলো শিশুর শরীরের পুষ্টি উপাদান শুষে নিতে শুরু করে, যার ফলে শিশু শারীরিকভাবে দুর্বল ও অসুস্থ বোধ করে।
অনেক সময় দেখা যায়, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করার পরেও শিশুর ওজন কমতে শুরু করেছে, সে বারবার পেটে ব্যথার অভিযোগ করছে, অথবা রাতে তার ঘুম অস্থির বা ছন্নছাড়া হচ্ছে। যদি এই সমস্যাটি তীব্র আকার ধারণ করে, তবে তা শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, পড়াশোনার ফলাফল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, শিশুর পেটে কৃমি আছে কি না, তা সঠিকভাবে শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এই নিবন্ধে আমরা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উপস্থাপন করছি, যা শিশুর পেটে কৃমির উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
পেটে ব্যথা এবং ঘন ঘন গ্যাস হওয়া
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) গবেষণামতে, যদি কোনো শিশু ঘন ঘন পেটে ব্যথা বা মোচড় অনুভব করে, কিংবা পেটে অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যায় ভোগে, তবে তা পেটের কৃমির লক্ষণ হতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে পেট ফুলে যাওয়া এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এমতাবস্থায়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শিশুকে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়।
ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া এবং শারীরিক দুর্বলতা
বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে, অনেক শিশু নিয়মিত ও পর্যাপ্ত খাবার খাওয়ার পরেও তাদের ওজন বাড়ে না। আপনি যদি আপনার সন্তানের মধ্যে এমন লক্ষণ বা প্রবণতা লক্ষ্য করেন, তবে এটি সম্ভব যে তার পেটে কৃমির সংক্রমণ ঘটেছে। এমনটি ঘটে কারণ কৃমিগুলো শরীর থেকে সমস্ত পুষ্টি উপাদান শুষে নেয়, যার ফলে শিশু শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তাছাড়া, এই অবস্থাটি শিশুর সামগ্রিক বৃদ্ধি ও বিকাশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
রাতে মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি
যখন কোনো শিশুর পেটে কৃমি থাকে, তখন রাতে ঘুমের মধ্যে সে তার মলদ্বারের (পাচনতন্ত্রের একেবারে শেষ অংশ বা মলত্যাগের পথ) চারপাশে তীব্র চুলকানি অনুভব করে। এটি শিশুর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
আরও পড়ুন : হাত ধোয়ার সময় মানুষ সচরাচর যে ভুলগুলো করে—ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জেনে নিন
অতিরিক্ত ক্ষুধা অথবা সম্পূর্ণ অরুচি
অন্ত্রে কৃমির সংক্রমণ থাকলে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভূত হয়, আবার অন্যদের ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই খাওয়ার রুচি কমে যায়। এটি শরীরে পুষ্টির ঘাটতির একটি লক্ষণ হতে পারে। অন্ত্রের কৃমি বিষয়ক হেলথলাইনের (Healthline) একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পরজীবীগুলো পরিপাকতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
শিশুদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ ও ক্লান্তি
যদি কোনো শিশু খুব সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, খিটখিটে মেজাজে থাকে, অথবা পড়াশোনা ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে—তবে এর কারণ হিসেবে কৃমির উপস্থিতি দায়ী হতে পারে। কৃমি শরীরের রক্তও পুষ্টির ভাণ্ডার নিঃশেষ করে দিতে পারে, যার ফলে রক্তস্বল্পতা, শারীরিক দুর্বলতা এবং ক্লান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।