৫ টি খাবার যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, আপনি কি খাচ্ছেন সেগুলো?

আজকাল সব বয়সের মানুষের মধ্যেই কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যাটি ক্রমশ বেশি দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান এবং শরীরে খনিজ উপাদানের ঘাটতি। তাছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু খাবার কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়িয়ে তোলে বলে জানা যায়। চলুন, সেই খাবারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

4 Min Read

বর্তমানে কিডনিতে পাথর—যা ‘রেনাল ক্যালকুলাই’ নামেও পরিচিত—হওয়ার সমস্যাটি বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। কিডনি কিংবা পিত্তথলি—উভয় স্থানেই ছোট ছোট পাথর তৈরি হতে পারে, যা প্রায়শই অসহনীয় যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। যেসব ক্ষেত্রে পিত্তথলিতে পাথর তৈরি হয়, সেখানে অনেক সময় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরো পিত্তথলিটিই কেটে বাদ দিতে হয়। তবে, কিডনির পাথর অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধ সেবন এবং ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হয়। তা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক সময়ে এই সমস্যাটি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব বয়সের মানুষই বর্তমানে কিডনিতে পাথর হওয়ার সমস্যার সাথে লড়ছেন। এর মূল কারণ নিহিত রয়েছে আমাদের পরিবর্তিত জীবনযাপন পদ্ধতি এবং খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে। মানুষ প্রায়শই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতে ভুলে যান এবং খুব একটা চিন্তাভাবনা না করেই এমন সব খাবার গ্রহণ করেন, যা শরীরের অভ্যন্তরে পাথর তৈরির সম্ভাবনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশ কিছু বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির পেছনে ভূমিকা রাখে; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন, খনিজ উপাদানের ভারসাম্যহীনতা এবং নির্দিষ্ট কিছু খাবার অত্যধিক পরিমাণে গ্রহণ করা। আমরা প্রায়শই আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে এমন কিছু খাবার অন্তর্ভুক্ত করি, যা আমাদের অজান্তেই কিডনিতে পাথর তৈরির প্রক্রিয়াকে ধীরে ধীরে ত্বরান্বিত করে। এই প্রেক্ষাপটে, চলুন আমরা সেই ৫টি নির্দিষ্ট খাবারকে চিহ্নিত করি, যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তোলে।

পালং শাক কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়

পালং শাক হলো আয়রনের একটি চমৎকার উৎস এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার হিসেবে এটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত। তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে—এটি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। যেসব ব্যক্তির অতীতে কিডনিতে পাথর হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের পালং শাক খাওয়া কঠোরভাবে পরিহার করা উচিত। এর কারণ হলো, পালং শাকে ‘অক্সালেট’ নামক উপাদানের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি থাকে; এই অক্সালেটগুলো শরীরের অভ্যন্তরে থাকা ক্যালসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে স্ফটিক বা ক্রিস্টাল তৈরি করে, যা পরবর্তীতে একত্রিত হয়ে কিডনির পাথরে রূপ নেয়।

বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার: এ নিয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন

কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, চিনাবাদাম এবং তিল বা সূর্যমুখী বীজের মতো নির্দিষ্ট কিছু বীজজাতীয় খাবারও কিডনিতে পাথর তৈরির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে; কারণ এই খাবারগুলোতেও অক্সালেট নামক উপাদানটি বিদ্যমান থাকে। যদিও এই খাবারগুলো পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, তবুও অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে, যাদের অতীতে কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের এই খাবারগুলো অত্যন্ত সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

চকলেট এবং কোকো-জাতীয় পণ্য

‘হেলথলাইন’ (Healthline)-এর তথ্যমতে, চকলেট এবং কোকো-ভিত্তিক পণ্যগুলো খেতে সুস্বাদু হলেও, এগুলোতে অক্সালেটের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। ঘনঘন বা অতিরিক্ত পরিমাণে এগুলো গ্রহণ করলে শরীরে অক্সালেট জমা হতে থাকে, যার ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই, এই ধরনের খাবারগুলো পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার

‘ওয়েবএমডি’ (WebMD)-এর মতে, অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ গ্রহণ করলে শরীরে নানাবিধ স্বাস্থ্যগত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যার মধ্যে কিডনিতে পাথর হওয়া অন্যতম। আমরা যখন অতিরিক্ত লবণ খাই, তখন শরীর প্রস্রাবের মাধ্যমে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম শরীর থেকে বের করে দেয়; আর পরবর্তীতে এই ক্যালসিয়াম থেকেই পাথরের সৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং জাঙ্ক ফুডে সাধারণত লবণের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, তাই এই খাবারগুলোর গ্রহণ সীমিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আর পরুন : গ্রীষ্মকালীন উজ্জ্বল ত্বক পেতে ব্যবহার করুন চালের গুঁড়ো ও অ্যালোভেরা ফেস প্যাক

লাল মাংস এবং প্রাণীজ প্রোটিন

এই তালিকায় লাল মাংস এবং প্রাণীজ প্রোটিনের অন্যান্য উৎস—যেমন: মুরগির মাংস, ডিম ইত্যাদিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই খাবারগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এই ইউরিক অ্যাসিড কিডনির ভেতরে জমা হতে থাকে, যা পাথরের সৃষ্টি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। বিভিন্ন গবেষণার তথ্যমতে, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ও সুষম পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা জরুরি হলেও, অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত—বিশেষ করে যদি অতীতে কিডনিতে পাথর হওয়ার কোনো ইতিহাস থাকে।

Share This Article