হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বাড়ছে এবং এখন কম বয়সী মানুষেরাও এতে আক্রান্ত হচ্ছেন। হার্ট অ্যাটাকের সাথে উচ্চ কোলেস্টেরলের প্রায়ই যোগসূত্র পাওয়া যায়; ধারণা করা হয় যে, “খারাপ” কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে ধমনীতে চর্বি জমতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য কেবল কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর নির্ভর করে না; আরও নানা কারণ রয়েছে যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এ কারণেই স্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রা থাকা সত্ত্বেও গুরুতর হৃদরোগজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধুমাত্র কোলেস্টেরলের রিপোর্ট দেখে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। এটি বোঝা জরুরি যে, হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণের ওপর নির্ভরশীল নয়। আসুন দেখি, উচ্চ কোলেস্টেরল ছাড়াও আর কোন কোন বিষয় হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
উচ্চ কোলেস্টেরল ছাড়াও আর কি কি কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (AHA)-এর মতে, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে উচ্চ কোলেস্টেরল একটি বড় ঝুঁকির কারণ হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। সংস্থাটি উল্লেখ করে যে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ এবং পারিবারিক ইতিহাসের মতো বিষয়গুলোও হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
তাই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কেবল কোলেস্টেরলের ওপর মনোযোগ দেওয়া যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ কারণেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিভিন্ন ঝুঁকির কারণ শনাক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হার্ট অ্যাটাকের এই লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা করবেন না
হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে কারও কারও ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব করা, শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং চোয়াল, ঘাড়, কাঁধ বা বাহুতে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে একেকজনের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো একেক রকম হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে—বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে—লক্ষণগুলো ভিন্ন হতে পারে বা খুব একটা প্রকট নাও হতে পারে। তাই কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ বারবার দেখা দিলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন : অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার কি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে? জানুন
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে কি করা যেতে পারে?
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ধূমপান বর্জন করুন। পাশাপাশি, রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করান।
পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি। হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো অপরিহার্য।