পিত্তথলিতে পাথর হলে তা অপসারণ করাই প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি। ভারতে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঘটনা দ্রুত বাড়ছে, যার অন্যতম কারণ হলো অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। পিত্তথলি অপসারণের পর অন্ত্রের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে কি খাওয়া উচিত, তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত থাকেন। আসলে, পিত্তথলি অপসারণের ফলে অন্ত্র এবং পেটের অন্যান্য অঙ্গের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের ‘ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি’-র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. পীযূষ রঞ্জন জানান যে, পিত্তথলির পাথর মূলত দুই ধরনের হয়: কোলেস্টেরল স্টোন এবং পিগমেন্ট স্টোন।
ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সমস্যাটি ক্রমশ বাড়ছে। ডা. পীযূষ উল্লেখ করেন যে, কম বয়সীদের ক্ষেত্রে পিত্তথলির পাথরের সমস্যার সাথে প্রায়শই পিগমেন্ট স্টোনের যোগসূত্র থাকে। প্রশ্ন হলো, পিত্তথলি অপসারণের পর অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? আসুন জেনে নেওয়া যাক…
পিত্তথলি ছাড়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখা
ডা. রত্নেশ জেনা (সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জেনারেল অ্যান্ড ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি, অ্যাপোলো স্পেকট্রা হাসপাতাল, জয়পুর) ব্যাখ্যা করেন যে, পিত্তথলি অপসারণের পর পিত্তরস (bile) আর জমা হয়ে একবারে নির্গত হয় না; বরং তা অল্প পরিমাণে ক্রমাগত অন্ত্রে প্রবাহিত হতে থাকে। এর ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে গ্যাস, পেট ফাঁপা, বদহজম, পাতলা পায়খানা বা খাবার হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
অল্প পরিমাণে খাবার খান—ডা. রত্নেশ পরামর্শ দেন যে, একবারে ভারী খাবার না খেয়ে দিনে ৪-৫ বার অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়া উচিত। পিত্তথলি অপসারণের পর অতিরিক্ত খেলে দীর্ঘ সময় ধরে পেটের সমস্যা হতে পারে; এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রে প্রদাহও সৃষ্টি হতে পারে।
ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন—বিশেষজ্ঞরা ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত মশলাদার এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন, কারণ এগুলো হজম করতে শরীরকে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।
ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার অপরিহার্য—অন্ত্র এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ফাইবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যতালিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার—যেমন ফল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য (whole grains) এবং ডাল—অন্তর্ভুক্ত করলে অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয়।
আরও পড়ুন : কোন অভ্যাসগুলোর কারণে পেটে গ্যাস হতে পারে? বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিন
প্রোবায়োটিকের উপকারিতা—ফার্মেন্টেড বা গাঁজানো খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত হয়। দই, ঘোল এবং অন্যান্য প্রোবায়োটিক-সমৃদ্ধ খাবার উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলে।
শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখা—পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি সুষ্ঠু পরিপাক নিশ্চিত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।
এই বিষয়গুলো মনে রাখুন—নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। যদি দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, অতিরিক্ত গ্যাস বা পুষ্টির ঘাটতির মতো লক্ষণগুলো দেখা দেয় এবং তা দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকে, তবে সময়মতো ও সঠিক চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।