মাসিকের সময় ব্যথা কমানোর জন্য কি ব্যথানাশক (পেইনকিলার) ওষুধ খাওয়া ঠিক নাকি ভুল? এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত জেনে নিন।

নারীদের প্রতি মাসে ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড হয় এবং এর সাথে জড়িত ব্যথা সহ্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। একটি প্রচলিত ভুল ধারণা রয়েছে যে, মাসিকের সময় কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এই নিবন্ধে একজন বিশেষজ্ঞের সহায়তায় আমরা এই ভুল ধারণার পেছনের সত্যটি জেনে নেব।

3 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা, পিঠে ব্যথা এবং পায়ে ব্যথা হওয়া খুবই সাধারণ বিষয়। কারো কারো ক্ষেত্রে অস্বস্তি সামান্য হলেও, অনেকে আবার তীব্র ব্যথায় ভোগেন। এ থেকে প্রশ্ন জাগে: এই ব্যথা এবং এর সাথে হওয়া খিঁচুনি বা ক্র্যাম্প (cramps) কমাতে কি ওষুধ খাওয়া যেতে পারে? যদিও সাধারণত মাসিকের ব্যথায় ওষুধ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, তবে এটি সঠিক নয়। বরং জেনে অবাক হবেন যে, যৌন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তানিয়া নরেন্দ্রর মতে, মাসিকের সময় ব্যথানাশক ওষুধ এড়িয়ে চলার ধারণাটি কেবলই একটি ভ্রান্ত ধারণা।

খুব কম নারীই জানেন যে মাসিকের ব্যথা সহ্য করার কোনো প্রয়োজন নেই; এটি নিয়ন্ত্রণে ব্যথানাশক ওষুধসহ আরও বিভিন্ন উপায় রয়েছে। এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব কখন মাসিকের ব্যথার জন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া উচিত এবং ক্র্যাম্প থেকে মুক্তি পেতে আর কি কি করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞ কি বলছেন?

ডা. তানিয়া নরেন্দ্র ব্যাখ্যা করেন যে, প্রতি মাসে জরায়ুর ভেতরে তৈরি হওয়া আস্তরণ বা ‘এন্ডোমেট্রিয়াম’ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে সম্ভাব্য ভ্রূণের পুষ্টি জোগানোর জন্যই এই আস্তরণটি তৈরি হয়। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে, মাসিকের রক্ত​কোনো ‘নোংরা’ রক্ত​নয়। তবে জরায়ুর মুখ বেশ সরু হওয়ায় এর মধ্য দিয়ে এন্ডোমেট্রিয়ামের কলা বা টিস্যু বের করে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াটি সহজ করতে শরীর ‘প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন’ নামক একটি রাসায়নিক উপাদান তৈরি করে, যা জরায়ুকে জোরে সংকুচিত হতে (বা সংকুচিত হয়ে চাপ সৃষ্টি করতে) বাধ্য করে। এই সংকোচন বা চাপের কারণেই মাসিকের ব্যথা অনুভূত হয়। তাই, এই অস্বস্তি কমানোর একটি কার্যকর উপায় হলো ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা। ব্যথানাশক ওষুধ প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ব্যথানাশক ওষুধ নিয়ে ভুল ধারণা

নারীরা প্রায়ই ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকেন কারণ তাঁদের আশঙ্কা থাকে যে, ওষুধ হয়তো জরায়ুকে শুষ্ক করে ফেলবে, বিষাক্ত করবে বা ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমিয়ে দেবে। কিন্তু বাস্তবে এমনটা মোটেও ঘটে না। মাসিকের ব্যথা কমাতে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন ক্ষতিকর নয়। মাসিকের ব্যথা উপশমে আপনি অবশ্যই ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন; তবে ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার পরেও যদি ব্যথা থেকে যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন : ঘরেই কি ORS তৈরি করা সম্ভব? জেনে নিন ধাপে ধাপে তৈরির পদ্ধতি

মাসিকের সময় তলপেটের ব্যথা বা ক্র্যাম্প কমানোর উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথানাশক ওষুধের পাশাপাশি ডার্ক চকলেট খাওয়া যেতে পারে, যা ব্যথা কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করে। কিছু বিশেষ যোগব্যায়ামের ভঙ্গিও এই ব্যথা ও অস্বস্তি থেকে মুক্তি দিতে পারে। এছাড়া, হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করাও মাসিকের সময়কার ব্যথা উপশমে সহায়তা করতে পারে।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article