ফ্যাটি লিভার কি কিডনির স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে? এই দুই অঙ্গের মধ্যকার সম্পর্কটি বুঝে নিন

বর্তমান সময়ে, ফ্যাটি লিভার বা যকৃতে চর্বি জমার সমস্যাটি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটিকে কেবল লিভার-সম্পর্কিত একটি রোগ হিসেবে গণ্য করা ভুল হবে, কারণ এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই, ফ্যাটি লিভার কিডনির স্বাস্থ্যের ওপরও কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে কি না—তা বোঝা অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে।

3 Min Read

বর্তমানে, ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ দ্রুত হারে বাড়ছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং একটি অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মানুষ প্রায়শই ফ্যাটি লিভারকে কেবল লিভার-কেন্দ্রিক একটি সমস্যা হিসেবে দেখে; কিন্তু এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পর্যন্তও বিস্তৃত হতে পারে। যদি ফ্যাটি লিভার দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান থাকে, তবে এটি শরীরের বিপাকক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে এবং বিভিন্ন অপরিহার্য শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে, ফ্যাটি লিভারের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষণ বা উপসর্গ সচরাচর প্রকাশ পায় না। তবে সময়ের সাথে সাথে, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ (systemic inflammation), ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতার সাথে যুক্ত হয়ে পড়তে পারে। যদি সঠিক সময়ে এর যথাযথ চিকিৎসা বা প্রতিকার না করা হয়, তবে শেষমেশ এটি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমতাবস্থায় একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন সামনে চলে আসে: ফ্যাটি লিভার কি কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে? চলুন, এই দুটি অঙ্গের মধ্যকার প্রতিষ্ঠিত সম্পর্কটি খতিয়ে দেখি এবং যেসব গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করি।

Fatty liver and the kidneys: understand the relationship between these two organs.

ফ্যাটি লিভার কি কিডনির স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে?

‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী ফ্যাটি লিভার শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি করতে পারে। সময়ের পরিক্রমায়, এই অবস্থাটি ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফ্যাটি লিভারের সাথে প্রায়শই স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো শারীরিক অবস্থার নিবিড় সম্পর্ক দেখা যায়—আর এই বিষয়গুলোই পরোক্ষভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিকে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে তোলে।

তবে, এই শারীরিক অবস্থার প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তাই, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং একটি সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন পদ্ধতি গ্রহণ করাকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কোন কোন লক্ষণ দেখে লিভার ও কিডনি পরীক্ষা করানো প্রয়োজন বলে মনে করা উচিত?

দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা অবসাদ, পেটে ভারী ভাব বা পেট ফুলে থাকার অনুভূতি, ক্ষুধামন্দা এবং শরীরের ওজনে আকস্মিক পরিবর্তন—এই লক্ষণগুলোকে কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রস্রাব সংক্রান্ত পরিবর্তন, শরীরের বিভিন্ন অংশে সাধারণ ফোলাভাব কিংবা শারীরিক দুর্বলতার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

আপনি যদি দীর্ঘ সময় ধরে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা স্থূলতার মতো শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকেন, তবে নিয়মিত বিরতিতে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি হতে পারে। সময়মতো স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা লিভার ও কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন : নারীদের মধ্যে ক্যালসিয়ামের অভাবে কি কি স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে?

লিভার ও কিডনির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে?

একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন এবং ভাজাপোড়া ও অতিমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দিন। নিয়মিত শরীরচর্চা এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা—উভয় অঙ্গের সুস্বাস্থ্যের জন্যই উপকারী বলে মনে করা হয়।

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন, মদ্যপান ও ধূমপান থেকে বিরত থাকুন এবং নিয়মিত বিরতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। একটি সুস্থ জীবনধারা অবলম্বন করা দীর্ঘমেয়াদে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

Share This Article