আপনার কি অতিরিক্ত ঘাম হয়? জেনে নিন এর কারণগুলো

অনেকেই অতিরিক্ত ঘামের সমস্যায় ভোগেন। বিষয়টিকে সাধারণ বা তুচ্ছ মনে করে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়, কারণ এর পেছনে বিভিন্ন অন্তর্নিহিত কারণ থাকতে পারে। আসুন সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।

3 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

ঘাম একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। গরম আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক চাপের সময় ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোনো কঠোর পরিশ্রম ছাড়াই বা স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। অতিরিক্ত ঘাম সবসময় স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয় না; এটি অনেক সময় ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবন, কর্মক্ষেত্র এবং আত্মবিশ্বাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কারও কারও ক্ষেত্রে হাতের তালু, পায়ের পাতা, মুখমণ্ডল বা পুরো শরীরেই অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। তাই এর মূল কারণগুলো বোঝা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত ঘাম কি কেবল আবহাওয়া বা জীবনযাত্রার অভ্যাসের কারণে হচ্ছে, নাকি এর পেছনে পুষ্টির ঘাটতি বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে—তা নির্ণয় করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, কোন সতর্কবার্তাগুলো উপেক্ষা করা উচিত নয়, তাও জানা জরুরি।

অতিরিক্ত ঘামের কারণ কি?

‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন‘-এ প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ঘাম এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের চেয়ে বেশি ঘাম তৈরি করে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, এটি অনেক সময় নিজে থেকেই হতে পারে; আবার কখনও কখনও থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, হরমোনের পরিবর্তন, স্থূলতা বা স্নায়ুতন্ত্রের কোনো রোগের সাথেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট ওষুধও এর কারণ হতে পারে।

এছাড়া, ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এর আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘামে ভোগা কিছু রোগীর শরীরে ভিটামিন ডি এবং ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কম ছিল। যদিও গবেষকরা সরাসরি বলেননি যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিই অতিরিক্ত ঘামের মূল কারণ, তবে তাঁরা এই দুটির মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

অতিরিক্ত ঘামের বিষয়ে কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

যদি অতিরিক্ত ঘামের পাশাপাশি ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, দ্রুত হৃদস্পন্দন, মাথা ঘোরা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এছাড়া, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি হঠাৎ ঘাম বেড়ে যায় অথবা সমস্যাটি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এর মূল কারণ শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।

আরও পড়ুন : কালো লবণ কি সাদা লবণের চেয়ে ভালো? একজন বিশেষজ্ঞের কাছে জানুন

অতিরিক্ত ঘাম কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন এবং শরীরকে আর্দ্র রাখুন। হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন এবং দীর্ঘ সময় ধরে গরম পরিবেশে থাকা এড়িয়ে চলুন। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন যাতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পায়।

এ ছাড়াও, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন এবং যদি অতিরিক্ত ঘামের সমস্যাটি বারবার দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article