স্থূলতা কেবল হৃদপিণ্ডকেই নয়, কিডনির স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে, জানুন

স্থূলতার সাথে প্রায়শই হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়; তবে এটি কিডনির স্বাস্থ্যের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। চলুন, বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক স্থূলতা কীভাবে কিডনিকে প্রভাবিত করতে পারে।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

বর্তমান বিশ্বে, স্থূলতা একটি প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মানুষ সাধারণত স্থূলতাকে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের সাথে যুক্ত করে দেখলেও, এটি শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও প্রভাবিত করতে পারে। শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণ এবং শরীরের বিভিন্ন অপরিহার্য কার্যপ্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে কিডনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে; তবে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেলে কিডনির স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্থূলতা কেবল শরীরের আকার বা ওজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ কোনো সমস্যা নয়। এটি এমন বেশ কিছু শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা সময়ের সাথে সাথে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। কিডনি হলো শরীরের সেইসব অঙ্গের একটি, যা শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখার লক্ষ্যে অবিরাম কাজ করে যায়। তবে, কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায়শই কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না; যার ফলে মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থেকে যেতে পারে। এমতাবস্থায়, স্থূলতা বৃদ্ধির ফলে কিডনির স্বাস্থ্য কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে, কি কি সতর্ক-লক্ষণ বা উপসর্গগুলোর প্রতি নজর রাখা প্রয়োজন এবং এই সমস্যা প্রতিরোধে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে—সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

স্থূলতা কীভাবে কিডনির স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে?

ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন‘-এর তথ্যমতে, স্থূলতা ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিজ’ বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের (CKD) ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন কোনো ব্যক্তির শরীরের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, তখন শরীরের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়; আর এই অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে কিডনির ওপর অত্যধিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

তাছাড়া, স্থূলতার সাথে উচ্চ রক্তচাপ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো শারীরিক অবস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে—আর এই উভয় অবস্থাই কিডনি রোগের প্রধান ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃত। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের অতিরিক্ত ওজন বহন করার ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে এবং কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। তবে, স্থূলতার প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তাই, শরীরের একটি সুষম বা সুস্থ ওজন বজায় রাখা এবং নিয়মিত বিরতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

স্থূলতা যে কিডনিকে প্রভাবিত করছে, তার লক্ষণ বা ইঙ্গিতগুলো কি হতে পারে?

কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর প্রাথমিক পর্যায়ে সবসময় সুস্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে, কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে পা, গোড়ালি কিংবা মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়া; অত্যধিক ক্লান্তি অনুভব করা; ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া; অথবা প্রস্রাব-সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষুধামন্দা, মনোযোগের অভাব কিংবা সার্বিক শারীরিক দুর্বলতার অনুভূতিও কিডনির সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। যদি এ ধরনের লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষাগুলো করানো উচিত।

আরও পড়ুন : ঘন ঘন মাথাব্যথা কি উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ ? জানুন

কীভাবে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং কিডনি সুস্থ রাখবেন?

শরীরের ওজন স্বাভাবিক ও সুস্থ সীমার মধ্যে রাখতে হলে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন। জাঙ্ক ফুড, চিনিযুক্ত খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার পরিমাণ যথাসম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন।

তাছাড়া, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন; রক্তচাপ ও রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকাও কিডনির সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article