নারীদের বছরে অন্তত একবার কোন রক্ত​পরীক্ষাগুলো অবশ্যই করানো উচিত? বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে নিন

নারীদের শরীরে সময়ে সময়ে নানাবিধ পরিবর্তন ঘটে থাকে। ফলস্বরূপ, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা হেলথ চেকআপ করানো অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হয়। নারীদের বছরে অন্তত একবার নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা অবশ্যই করানো উচিত। চলুন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের স্বাস্থ্যে অসংখ্য পরিবর্তন আসে। হরমোনের ওঠানামা, পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা, ঋতুস্রাব, গর্ভাবস্থা এবং বার্ধক্যের মতো বিষয়গুলো—সবই একজন নারীর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় শরীরের ভেতরে দানা বাঁধা কোনো রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে না, যার ফলে রোগ নির্ণয় করতে দেরি হয়ে যায়। এমতাবস্থায়, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত সুফলদায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি, রক্তে শর্করার মাত্রা, থাইরয়েডের কার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যাগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

অনেক শারীরিক সমস্যা বা রোগ তাদের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। তাই, কেবল তখনই পরীক্ষা করানো—যখন কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা সমস্যা অনুভূত হচ্ছে—তা যথেষ্ট বলে মনে করা হয় না। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায় এবং ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে এমন সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো সময়মতো শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সুতরাং, নির্দিষ্ট বিরতিতে স্বাস্থ্যের ওপর নজরদারি বা পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেবল রোগ দ্রুত শনাক্ত করতেই সাহায্য করে না, বরং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এই প্রেক্ষাপটে, নারীদের বছরে অন্তত একবার কোন নির্দিষ্ট রক্ত পরীক্ষাগুলো করানো উচিত, তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

নারীদের বছরে অন্তত একবার কোন রক্ত পরীক্ষাগুলো অবশ্যই করানো উচিত?

জয়পুরের অ্যাপোলো স্পেকট্রা হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. প্রতিমা পোদ্দার জানান যে, নারীদের স্বাস্থ্যের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য বছরে অন্তত একবার নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। এই পরীক্ষাগুলোর মধ্যে থাকতে পারে—CBC (Complete Blood Count বা সম্পূর্ণ রক্ত গণনা), রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষা, লিপিড প্রোফাইল, থাইরয়েড প্রোফাইল (TSH, T3, T4) এবং ভিটামিন D ও ভিটামিন B12-এর মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষা।

তাঁর মতে, CBC পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) এবং রক্ত-সম্পর্কিত অন্যান্য সমস্যাগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষা ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে সাহায্য করে, অন্যদিকে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা যায়। এছাড়া, থাইরয়েড এবং ভিটামিনের মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষাগুলো শরীরের ভেতরে দানা বাঁধা বিভিন্ন সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করতে সহায়তা করে। যদি কোনো নারীর বয়স বেশি হয়ে থাকে অথবা তাঁর পরিবারে নির্দিষ্ট কোনো রোগের ইতিহাস থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করানো যেতে পারে।

কোন পরিস্থিতিতে রক্ত​পরীক্ষা করাতে দেরি করা উচিত নয়?

যদি দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস, চুল পড়া, ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া অথবা মাসিক চক্রে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন—এমন লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে রক্ত পরীক্ষা করাতে মোটেও দেরি করা উচিত নয়।

তাছাড়া, অত্যধিক তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে শক্তির অভাব বোধ করাও শরীরের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমতাবস্থায়, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষাগুলো করানোই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুন : উচ্চ রক্তে শর্করা কি ত্বক ও চুলের ক্ষতি করতে পারে? জেনে নিন

নারীদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য কোন বিষয়গুলো অপরিহার্য?

সর্বোত্তম স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, এমন একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন যাতে ফলমূল, শাকসবজি, প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

এ ছাড়াও, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা, শরীরকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আর্দ্র রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণকেই অবহেলা করবেন না; যখনই প্রয়োজন হবে, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article