উচ্চ রক্তে শর্করা কি ত্বক ও চুলের ক্ষতি করতে পারে? জেনে নিন

বর্তমান সময়ে, অনেকেই উচ্চ রক্তে শর্করা বা ডায়াবেটিসের শিকার হচ্ছেন। এর প্রভাব শরীরের বিভিন্ন অংশে পড়তে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের ওপরও কোনো প্রভাব ফেলে কি না।

4 Min Read
Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google

বর্তমানে, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তে শর্করার সমস্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত মানুষ এর প্রভাবকে হৃদপিণ্ড, কিডনি এবং চোখের জটিলতার সাথেই যুক্ত করে দেখেন; তবে, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া শরীরের অন্যান্য অংশেও প্রভাব ফেলতে পারে। ত্বক এবং চুল হলো শরীরের এমন দুটি অংশ, যাদের স্বাস্থ্য শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। যদি রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তবে তা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

অনেক সময় মানুষ কেবল তাদের রক্তে শর্করার মাত্রার দিকেই মনোযোগ দেন এবং শরীরের ভেতরে ঘটতে থাকা অন্যান্য দৃশ্যমান পরিবর্তনগুলোকে উপেক্ষা করেন। অথচ, ত্বক ও চুলের অবস্থা প্রায়শই একজন ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই, যদি রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকে, তবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে। চলুন পরীক্ষা করে দেখি, উচ্চ রক্তে শর্করা সত্যিই ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে কি না। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বুঝে নেওয়া যাক।

উচ্চ রক্তে শর্করা কি ত্বক ও চুলের ক্ষতি করতে পারে?

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, রক্তে শর্করার মাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে তা ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চ রক্তে শর্করা শরীরের রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং কোষগুলোতে পুষ্টি পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। এর ফলে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুলকানি বা ত্বকের অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

একইভাবে, চুলের গোড়া যদি পর্যাপ্ত পুষ্টি না পায়, তবে চুল দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং চুল পড়ার সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তবে, এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। যদি কোনো ব্যক্তির ডায়াবেটিস থাকে এবং তিনি তার ত্বক বা চুলে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে তার একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রক্তে শর্করার মাত্রা সময়মতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে, এই ধরনের জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

কোন লক্ষণগুলো দেখে বুঝবেন যে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করানো উচিত? যদি আপনি অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো অনুভব করেন, তবে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। তাছাড়া, যদি আপনার ত্বকে বারবার সংক্রমণের প্রবণতা থাকে, ক্ষত শুকাতে দেরি হয়, অথবা চুলে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো সময়মতো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন : গ্রীষ্মকালে ডিম খাওয়া কি নিরাপদ? জেনে নিন আসল তথ্য

সুস্থ ত্বক ও চুল বজায় রাখতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনার কি কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

একটি সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলুন এবং চিনিযুক্ত ও অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ সীমিত করুন। নিয়মিত শরীরচর্চা করুন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন; এই পদক্ষেপগুলো আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে।

এ ছাড়াও, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন, মানসিক চাপ যথাসম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন এবং ত্বক ও চুলের যত্নের একটি নিয়মিত রুটিন মেনে চলুন। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ঠিক যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই ওষুধ সেবন করুন এবং নির্দিষ্ট বিরতিতে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন।

এছাড়া, রাতে দেরি করে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া শরীরের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই, শিশুদের এই ধরনের অভ্যাসগুলো থেকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

Stay connected via Google News
Follow us for the latest updates.
Add as preferred source on google
Share This Article