ওয়েব ডেস্ক: একদল নেতা বিজেপির পৃথক উত্তরবঙ্গ এবং পৃথক জঙ্গল-মহলের দাবি করলেউ বাংলা কে ভাগ করতে দেওয়া হবেনা বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির পরেই বিজপির সাংসদ জন বার্লা-সহ একাধিক বিধায়ক পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবিতে সওয়াল করেছেন।
সাংসদ সৌমিত্র খাঁ পৃথক জঙ্গল-মহলের দাবি তুলেছেন। রাজ্যের এই অঞ্চলগুলিতে ‘অনুন্নয়ন’ এবং ‘বঞ্চনা’র যুক্তি দেখিয়েই পৃথক রাজ্যের সওয়াল করেছেন এই বিজেপি নেতারা। কিন্তু মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর জবাবি বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী তার ভাষায় বলেন, ‘যত ইচ্ছে লাড্ডু খেয়ে বেড়াও, বাংলা ভাগ করতে দিচ্ছি না। দার্জিলিং ভাগ করব, কোচবিহার ভাগ করব- তা আমরা কোনও অবস্থায় মেনে নেব না। আমাদের কাছে সবাই সমান। সবাই সুন্দর।’
মমতা এদিন জানিয়েছেন, জঙ্গল-মহলে দ্রুত শিল্প-নগরী গড়ে উঠতে চলেছে। যেখানে অন্তত ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে জঙ্গল-মহল শিল্প-নগরী হবে। বাঁকুড়া, বড়জোড়ায় এই শিল্প-নগরী হবে। ডানকুনি থেকে এই শিল্প-নগরীর সংযোগ তৈরি হবে।
কিন্তু এই অনুন্নয়ন ও বঞ্চনার যুক্তিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথ্য তুলে ধরে এদিন দেখিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ-সহ সারা রাজ্যে তৃণমূল সরকার গত ১০ বছরে কি কি উন্নয়নের কাজ করেছে। আগামী দিনে রাজ্যে কি ধরনের শিল্পায়ন ও উন্নয়নের কাজ হতে চলেছে, তার রূপরেখাও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। আজ, বুধবার রাজ্য বাজেট পেশ হবে। সেখানে নতুন সরকারের উন্নয়নের রোডম্যাপ থাকবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিধান পরিষদ প্রস্তাব পাশ বিধানসভায়, ‘শূন্য’ সিপিএম-কংগ্রেসকে কি সেখানে স্থান দিতে চান মমতা
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে অনেক কোম্পানি বিনিয়োগ করতে চাইছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ হলো গেটওয়ে।’ রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার একটি সংস্থা বিশদে সমীক্ষা চালাচ্ছে বলেও এদিন জানিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় তৃণমূল সরকারের আমল থেকেই বীরভূমের দেউচা-পাঁচামি খনি নিয়ে নবান্ন সক্রিয় হয়েছে। এদিন সেই প্রকল্পের আরও বিশদ রূপরেখা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য কাজ শুরু করা যায়নি। এখনই দেউচা-পাঁচামির কাজ শুরু করতে হবে। জেলাশাসককে বলা হয়েছে। প্রথম পর্ব শুরু করতে দিন, তার পর দ্বিতীয় পর্বের কাজ হবে। এখানে শহর, চাকরি, পুনর্বাসন সব করে দেবো। দেউচা-পাঁচামি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ কয়লাখনি হবে। এই প্রকল্প হয়ে গেলে বিদ্যুৎ অনেক সস্তা হবে।’
ট্র্যাডিশনাল এই শিল্পের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির মতো সানরাইজ সেক্টরেও রাজ্যে যে বিপুল কর্মসংস্থান হচ্ছে, তার উদাহরণ হিসেবে রাজারহাট-নিউ টাউনের সিলিকন ভ্যালির উদাহরণ দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির জন্য সিলিকন ভ্যালি হয়েছে। এখানে ২৪টি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এসেছে।’
পুরীর মতোই মাহেশ এর রথ ঘিরেও রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস, আসুন যেনে নেওয়া যাক
মমতার কথায়, ‘কর্ম-তীর্থ করেছি, উৎকর্ষ বাংলা করেছি, গতিধারা প্রকল্প করেছি, চা-সুন্দরী করেছি, কন্যাশ্রী করেছি, তফসিলি জাতির জন্য জয় জহর করেছি, সংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বৃত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। কোনও সরকার পারবে না এই কাজ করতে। আর কি বাকি আছে? এরা কানে শুনতে পায় না, চোখে দেখতে পায় না।’
নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকার ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্প করেছিল। রাজ্যে এই প্রকল্পেও মানুষ বিপুল ভাবে উপকৃত হয়েছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুয়ারে সরকার প্রকল্প করেছি। ১০ হাজার পাড়ায় সমাধান করেছি।’ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ দুর্গত হলেও রাজ্য সরকার দ্রুত ‘দুয়ারে ত্রাণ’ প্রকল্প শুরু করে। মমতার কথায়, ‘এখনও পর্যন্ত চার লক্ষ মানুষ দুয়ারে ত্রাণ প্রকল্পে কাগজ জমা দিয়েছেন। স্ক্রুটিনি শুরু হয়েছে। ক্ষতিপূরণের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে।’