ওয়েব ডেস্ক: নিজের পুরনো ঘরে ফিরেই ‘কাজ’ শুরু করে দিয়েছেন মুকুল রায়। বাংলার রাজনীতিতে তিনি বরাবরই চাণক্য বলে পরিচিত। শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সপুত্র তৃণমূলে ফিরেছেন ‘চাণক্য’। আর তারপর থেকেই বিজেপি ভাঙানোর ‘খেলা’ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে খবর। তিনি বিগত দিনে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর স্নায়ুর চাপ বেড়েছিল ঘাসফুল শিবিরের।
এরই মধ্যে শনিবার দুপুরে ছেলে শুভ্রাংশুকে নিয়ে অভিষেকের অফিসে যান মুকুল। সেখানে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয় তাঁদের। আর সেই বৈঠকেই অভিষেকের হাতে মুকুল ৩৫ জন বিজেপি নেতার একটি তালিকা তুলে দিয়েছেন বলে খবর। বলা বাহুল্য, ওই সমস্ত নেতার দলবদলের সম্ভাবনা তীব্র। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েকবছরে মুকুল রায়ের এই খেলার সঙ্গে পরিচিত গেরুয়া শিবির। সেকারণে রাতের ঘুম উড়েছে বিজেপির অনেকেরই।
সূত্রের খবর, যে সমস্ত নেতাদের নাম অভিষেককে দিয়েছেন মুকুল, তাঁদের মধ্যে যেমন তৃণমূল ছেড়ে ভোটের আগে বিজেপিতে নাম লেখানো নেতারা আছেন, একই সঙ্গে বিজেপির বেশ কিছু জনপ্রতিনিধিও আছেন। এরই মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, শুক্রবার বিকেলে তৃণমূলে নাম লেখানোর পর রাতেই বিজেপির এক সাংসদ ও ৭-৮ জন বিধায়কের কাছে ফোন গিয়েছে মুকুলের। অর্থাৎ, এটা স্পষ্ট যে, আগেও তৃণমূলে যে কাজটা দক্ষতার সঙ্গে করেছেন মুকুল, এবারও তার অন্যথা হবে না। যদিও বিজেপি পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক মনোজ টিগ্গা জানিয়েছেন, মুকুলের ফোন সম্পর্কে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যা করার করবেন।
‘কৃষক-বন্ধু’ প্রকল্পে ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সিলমোহর মমতার মন্ত্রীসভার
উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল, যেখানেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বিজেপি বিধায়ক-নেতা রয়েছেন, তাঁদেরই নিশানা করেছেন মুকুল। সূত্রের খবর এমনটাই। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ আসনের স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবে বিজেপি ৭৭টি আসনে জিতেছিল। কিন্তু সাংসদ পদে থাকা অবস্থায় দিনহাটা ও শান্তিপুর থেকে বিধানসভা ভোটে লড়ে জেতা নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। ফলে বিজেপি-র বিধায়ক সংখ্যা কমে হয়ে যায় ৭৫। শুক্রবার কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক মুকুল তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় সেই সংখ্যা কমে এখন ৭৪। আর তারপরই যেভাবে বিজেপি ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তাতে সেই সংখ্যাটা কত দাঁড়াবে, তা নিয়ে চিন্তায় গেরুয়া শিবির।
যদিও এ প্রসঙ্গে এখন থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চ্যালেঞ্জের সুরে তিনি বলেছেন, ‘মুকুল রায়কে দিয়ে যে পর্ব শুরু হল, তা দলত্যাগ বিরোধী আইন মেনে হয়নি। আমি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলছি, দু’মাস হোক, তিন মাস হোক, বিরোধী দলনেতা হিসেবে বাংলায় এই আইন কার্যকর করেই ছাড়ব আমি।’ যদিও বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এরা কেউই তো গরু-ছাগল নয়, যে বেঁধে রাখব। মুকুল রায় বিজেপিতে ছিলেন। তাই বিজেপি ছাড়ার পর পূর্বপরিচিতদের ফোন করতেই পারেন। তবে, যারা অরিজিনাল বিজেপি, তাঁরা কেউই দল ছাড়বেন না। আর যারা আয়ারাম-গয়ারাম তাঁদের নিয়ে ভাবছি না।
‘মোদীকে হঠানোই মূল লক্ষ্য’, ২৪ এর লড়াইতে বিজেপি বিরোধী জোট গড়তে মমতাই মুখ
এক বিজেপি নেতার দাবি, ‘ফোনের বিষয়টি জানা গিয়েছে। তবে গোটা বিষয়টি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যা করার করবেন।’ এখানেই প্রশ্ন মুকুল রায় যাকে আনার চেষ্টা করবেন তাঁকে কি ধরে রাখতে পারবেন শুভেন্দু অধিকারী?