ওয়েব ডেস্ক: করোনার চিকিৎসায় বহু বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিং হোমের বিরুদ্ধেই লাগামছাড়া খরচের অভিযোগ উঠেছিল৷ বেশ কিছু প্যাথলজিক্যাল সেন্টারের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তুলেছিল রোগী এবং তাঁদের পরিজনরা। এবার করোনার পরীক্ষার মতোই বেশ কিছু রেডিওলজিক্যাল এবং প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার খরচের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিল রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশন। মূলত করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে যে পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলির বেশি প্রয়োজন হয়, তার উপরেই জোর দেওয়া হয়েছে। তবে করোনা আক্রান্ত ছাড়াও অন্যান্য রোগীদের ক্ষেত্রেও এই বেঁধে দেওয়া হার মেনে চলতে হবে বেসরকারি হাসপাতাল বা প্যাথলজিক্যাল সেন্টারগুলিকে।
শুক্রবার দফতর থেকে প্রকাশিত এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ১৫০ বা তার বেশি শয্যা রয়েছে এমন বেসরকারি হাসপাতালের জন্য প্রযোজ্য হবে এই দর। তবে যারা এর থেকে কম দরে পরীক্ষা করছেন তারা তা বদল করতে পারবেন না।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বিভিন্ন পরীক্ষার সর্বোচ্চ দর নির্ধারণের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করেছে সরকার। ক্লিনিক্যাল এসট্যাবলিশমেন্ট আইন ২০১৭-র ক্ষমতাবলে এই পদক্ষেপ করেছে তারা।
অতিমারির ভয়ঙ্কর পর্যায় আসছে, মন্তব্য WHO প্রধানের
নির্দেশিকায় মোট পাঁচ ধরনের রেডিওলজিক্যাল টেস্ট এবং অন্তত ১৫ ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুকের এক্স-রের সর্বোচ্চ দর ধরা হয়েছে ৪০০ টাকা, আল্ট্রাসনোগ্রাফির জন্য ২,২০০ টাকা, প্রকারভেদে সিটি স্ক্যানের খরচ ৩,৮০০ – ৫,২০০ টাকা। আবার সিটি পালমোনারি অ্যানজিওগ্রাফি পরীক্ষার সর্বোচ্চ রেট রাখা হয়েছে যথাক্রমে ১০ হাজার (৬৪ স্লাইস সিটি স্ক্যান) এবং ১১ হাজার (১২৮ স্লাইস সিটি স্ক্যান) টাকা। একই ভাবে সোডিয়াম পরীক্ষার খরচ ৪৫০ টাকা, পটাসিয়াম পরীক্ষার খরচ ৪৫০ টাকা, ডি ডিমার পরীক্ষার সর্বোচ্চ খরচ ২৩০০ টাকায় বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। এছাড়া রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার দর বেঁধে দিয়েছে সরকার। প্রোক্যালসিটোনিন পরীক্ষার দর হতে হবে ৪,০০০ টাকার মধ্যে।
