রাস্তার কুকুরদেরও খাওয়ার অধিকার রয়েছে, ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের

by Chhanda Basak

ওয়েব ডেস্ক: আবাসনের দরজায় কুকুরদের খাওয়ানো যাবে না। রাস্তার কুকুরদের খাবার দেওয়া নিয়ে জনৈক ব্যক্তিদের মধ্যে বিবাদ বাধে। সেই ঝগড়া গড়ায় আদালত পর্যন্ত। একপক্ষের দাবি, এতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। অপর পক্ষের দাবি ছিল, কুকুরকে তাঁরা নিয়মিত খাবার দিতে চান।

রাস্তার কুকুরদেরও খাওয়ার অধিকার রয়েছে, ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাইকোর্টের

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুন এক মামলায় এই রায় দেন বিচারপতি জে আর মিধার বেঞ্চ। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও আপলোড করা হয়েছে। দিল্লির এক কুকুর প্রেমী ও এক স্থানীয়ের মধ্যে বিরোধের মামলার ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়। এই রায়ে বলাহয় থ কুকুরদের খাওয়ানো যাবে। তার অধিকার পশু প্রেমীদের আছে।

শুধু রায়দানই নয়, এই সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন জাস্টিস জে আর মিধা। কি কি বলেছেন তিনি?

প্রথমত, পথ কুকুরদের (‘কমিউনিটি ডগ’ টার্মটা ব্যবহার করেছে হাইকোর্ট) খাওয়ানো যাবে। তার অধিকার পশু প্রেমীদের আছে। তাঁরা নিজেদের উঠোনে বা নির্দিষ্ট স্থানে তা করতে পারেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় আধিকারিক বা রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে প্রয়োজনে আলোচনা করা যেতে পারে। আর অবশ্যই এই স্থান কুকুরটির/কুকুরগুলির এলাকার মধ্যে হতে হবে।

দ্বিতীয়ত, টিকা দেওয়া এবং স্টেরিলাইজ করা কুকুরদের ধরার অধিকার মিউনিসিপালিটির নেই।

গুজরাতে এবছর শূন্য পেয়েও দশমের বোর্ড পরীক্ষা পাশ করল ১০০ পরীক্ষার্থী

তৃতীয়ত, রাস্তার কুকুরদের টিকা করণ ও স্টেরিলাইজেশনের দায়িত্ব মিউনিসিপাল কর্পোরেশন, রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং স্থানীয় ডগ লাভার্স গ্রুপের। হাইকোর্ট জানায়, পথের কুকুরদের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে নির্বীজ-করণ করা আবশ্যিক।

চতুর্থত, রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনগুলির সঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড (AWB) অব ইন্ডিয়াকে। টিকা ও নির্বীজ-করণের কাজে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে AWB-কে।

সেই সঙ্গে প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি আইন মানা হচ্ছে কিনা, তাও নজর রাখতে হবে।

পঞ্চমত, কুকুর প্রেমী এবং অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখার জন্য স্থানীয় পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের সমন গেল অভিনেত্রী Yami Gautam কাছে

হাইকোর্টের রায়ে আরও যা বলা হয়েছে :

পথ কুকুরদের খাবার অধিকার আছে এবং পশু প্রেমীদেরও তাদের খেতে দেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু সেই সঙ্গেই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এর থেকে যেন কারও ক্ষতি বা সমস্যা না হয়।

বিচারপতি বলেন, ‘প্রতিটি জীবিত প্রাণীর প্রতি আমাদের সহমর্মিতা দেখানো উচিৎ। পশুরা কথা বলতে পারে না, কিন্তু সমাজ হিসাবে আমাদের দায়িত্ব ওদের হয়ে কথা বলা। পশুদের প্রতি যেন কোনও যন্ত্রণাদায়ক ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পশুদেরও আবেগ আছে। ওদেরও খাদ্য, বাসস্থান, স্বাভাবিক ব্যবহার এবং চিকিৎসার সুবিধা প্রয়োজন।’

আদালত জানিয়েছে, প্রত্যেকটি পথ কুকুর নিজের এলাকায় থাকে। সেই এলাকাতেই নির্দিষ্ট জায়গায় তাকে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কেয়ারটেকারের অনুপস্থিতিতে যাতে সারমেয়রা জল ও খাবার পায় তা সুনিশ্চিত করতে হবে স্থানীয় পুরসভাকে।

Copyright © 2025 NEWS24-BENGALI.COM | All Rights Reserved.

google-news