988
হাওড়া। শনিবার সন্ধ্যায় হাওড়া স্টেশনে(HOWRA STATION) রেল কর্মীদের বিশেষ লোকাল ট্রেন ধরতে আসা সাধারণ যাত্রীদের যখন থামানো হই তখন প্রচুর গোলমাল শুরু হয়েছিল। যাত্রীদের ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছিল। মহিলাসহ লাঠিচার্জে বেস কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্টেশনে প্রবেশের অনেক আগেই আরপিএফ এবং জিআরপি এই যাত্রীদের ষ্টেশনের বাইরে থামিয়ে দেয়। স্টেশনের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হন। কয়েকশ যাত্রী স্টেশনের বাইরে জড়ো হয়েছিল। যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান ভিড় দেখে ক্যাব রোড সহ অন্যান্য প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এই সমস্ত যাত্রী রেল কর্মী বিশেষ লোকাল ট্রেন ধরতে অনড় ছিল। ঘটনাস্থলে পোস্ট করা রেলওয়ে পুলিশ আধিকারিকরা যাত্রীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও যাত্রীরা ছাড়েননি। যাত্রীদের থামাতে ব্যারিকেড লাগানো হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। যাত্রীদের ভীর দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অব্যাহত ছিল। অবশেষে সেখান থেকে যাত্রীদের সড়াতে পুলিশকে শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছিল। তাদের লাঠিচার্জ করা হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীরা করেছেন। তবে লাঠিচার্জের ঘটনা অস্বীকার করেছে রেলওয়ে পুলিশ। এই নাটক প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলেছিল।
ঘটনাটি আসলে কি ঘটেছিল :
শনিবার সন্ধ্যা ৫.৩০ টার দিকে রেল কর্মচারীদের বিশেষ লোকাল ট্রেন ধরতে প্রতিদিন অনেক যাত্রী হাওড়া স্টেশনে(HOWRA STATION) পৌঁছালেও তাদের স্টেশনের অভ্যন্তরে যেতে বাধা দেওয়া হয়। যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। যাত্রীদের থামাতে ব্যারিকেড লাগানো হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পোস্ট করা পুলিশ আধিকারিকরা যাত্রীদের অনুরোধ করেছিলেন যে তারা স্টাফ বিশেষ লোকাল ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন না। এ সত্ত্বেও যাত্রীদের ভিড় ট্রেন ধরতে অনড় ছিল। যাত্রীদের ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিপেটা করতে হয়েছিল। প্রতিদিনের সাধারণ যাত্রীদের এই গাঞ্জামের কারণে বিশেষ ট্রেনটি ধরতে আসা দূরপাল্লার যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। লাঠিচার্জ করার পরেও আবার যাত্রীদের ভিড় জমে। রেল পুলিশকে আবারও বল প্রয়োগ করতে হয়েছিল।
“আমি স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করি। আমি লক ডাউন মদ্ধেউ ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি। লোকাল ট্রেন বন্ধ হওয়ার পরে অফিস কীভাবে যাবে? ট্রেন ধরতে এখানে পৌঁছেছি কিন্তু রেলওয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এটা নিছক অন্যায়।”
-রনিতা সাহা
“লাঠি চার্জ করা ভুল। কিন্তু নিরুপায় হইএই আমন টা করা হইছে। প্রতিদিনের সাধারণ যাত্রীদের ভিড়ের কারণে বিশেষ ট্রেনটি ধরতে আসা যাত্রীদের সমস্যা হচ্ছিল। তারা স্টেশনে প্রবেশ করতে পারেনি। হৈচৈ করছে এমন কয়েকশ যাত্রী স্টেশনের অভ্যন্তরে প্রবেশের জন্য জোর দিয়েছিলেন। সাধারণ যাত্রীরা কর্মীদের বিশেষ স্থানীয় ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন না।”
-মোহাম্মদ আসলাম, আসিস্টেন সিকিউরিটি কমিশনার।
আরও পড়ুন : পটকাবাজি(FIREWORKS) নিষিদ্ধ করার দাবিতে সোমবার হবে হাইকোর্টে আবেদন
গত মার্চ মাস থেকে লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি শাখায় স্টাফ স্পেশাল লোকাল ট্রেন চালানো হচ্ছে। কেবল অন-ডিউটি রেল কর্মীরা এই ট্রেনে চড়তে পারবেন। স্টাফ স্পেশাল লোকাল ট্রেনগুলিতে অবৈধভাবে ভ্রমণ করার বিষয়ে প্রয়সই ষ্টেশন গুলি তে ঝামেলা লেগেই রয়েছে। সম্প্রতি, দৈনিক যাত্রীরা লিলুয়া, পান্ডুয়া , হুগলী এবং অন্যান্য স্টেশনগুলিতে গোলমাল সৃষ্টি করেছিল।