মতুয়ারা কি এবার বিজেপির সম্পর্ক ছাড়ছেন, মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদকের পোস্ট ঘিরে জল্পনা!

by Chhanda Basak

ওয়েব ডেস্ক: মতুয়া-গড়ে নয়া সমীকরণ। পাঁচ বিজেপি বিধায়কের দলীয় হোয়াটস্যাপ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই মতুয়া-গড়ে ক্রমেই পটপরিবর্তন। ইতিমধ্যেই,  গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরকে ‘ঘরে ফেরবার ডাক’ দিয়েছেন মমতাবালা ঠাকুর। এ বার অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্র গায়েনের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে জল্পনা দেখা দিয়েছে।

All india matua mahasangha can leave relationship with bjp general secretary facebook post create controversy

মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে এই জোড়া ফেসবুক পোস্টের পর জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি বিজেপির সঙ্গ ছাড়তে চলেছে মতুয়ারা। তাই কি সংগঠনের তরফ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হল। এই মুহূর্তে মতুয়া মহাসঙ্ঘ পরিচালনার দায়িত্ব ঠাকুরবাড়ির দুই সদস্য মমতাবালা ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুরের উপর ন্যস্ত। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। মতুয়া সম্প্রদায় দুজনের নেতৃত্বই মেনে চলে।

পদাধিকার বলে অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর। সাধারণ সম্পাদক সুখেন্দ্রনাথ গায়েন। সেই সুখেন্দ্রনাথই ফেসবুক পোস্ট করে জল্পনা বাড়ালেন। তা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তিনি মতুয়াদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ আর নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করবে না।

এই ফোসবুক পোস্টের পর অবশ্য সুখেন্দ্রনাথ গায়েন জানান, এটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত। আমরা মোট ১১ দফা দাবি নিয়ে বিজেপিকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার একটাও পূরণ হয়নি। সবক্ষেত্রেই মতুয়া বঞ্চিত হয়ে রয়েছে। সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদ দিয়ে তাদের যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি।

সায়ন্তনের পর আরও ‘বিদ্রোহ’, ছাড়লেন দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ

শনিবার সুব্রত ঠাকুর সহ-পাঁচ BJP বিধায়ক দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েছেন। এরপরেই মমতাবালা ঠাকুর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওঁরা বুঝতে পারছেন ওঁদের পাশ থেকে মতুয়ারা সরে যাচ্ছেন। সে কথা বুঝতে পেরেই BJP প্রতি মোহভঙ্গ হচ্ছে।’ যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের দলে নেন তা হলে একসঙ্গে কাজ করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। বরং তাতে মতুয়া সমাজের ভাল হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কলকাতা পুরভোটে BJP-র ভরাডুবির পরই ৩০টি সাংগঠনিক জেলায় দলীয় সভাপতি পদে রদবদল করেছে দল। অপসারিত হয়েছেন অনেকে। আর তারপরেই দলের ভিতরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, শনিবার মতুয়া সম্প্রদায়ভুক্ত পাঁচ বিধায়ক দলীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ত্যাগ করার পরই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডার সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।

পুরভোটের বিপর্যয় পর্যালোচনায় রাজ্য বিজেপি, দলের অন্তর্ঘাত কেই দায়ী

প্রায় একই সুর শোনা গিয়েছে রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীর গলাতেও। রাজ্য কমিটি থেকে তাঁর নাম বাদ পড়েছে শুনেই তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বিধায়কদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েছি। শুনেছি আমার মতো বহু বিধায়ক ও নেতা গ্রুপ ছেড়েছেন। লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়াদের সমর্থনের জন্য বাংলায় আশাতীত সাফল্য পেয়েছিল দল। কিন্তু, এদিন জেলা সভাপতিদের যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে কোনও মতুয়া প্রতিনিধি নেই।’ তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি সুব্রত ঠাকুর। বরং জেঠিমার আহ্বান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি কোনদিন রাজনীতিটা বুঝেছেন?’

Copyright © 2025 NEWS24-BENGALI.COM | All Rights Reserved.

google-news