ওয়েব ডেস্ক: এই দিন রাজারহাটে CPIM আয়োজিত এক ঘরোয়া সভাই উপস্থিত হয়েছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব। গৌতম দেবের বক্তব্য রাখার সময় এই স্মরণ সভা পরিণত হল দলের আত্ম-সমালোচনায়। দলের ভরাডুবির পর ঘুরে দাঁড়ানর জন্য দলকে দিলেন কিছু দাওয়াই। তার কথাই, ‘আশি বছরের নেতা দলকে আর কি দেবে? কম বয়সীদের জায়গা দিন আরও। বড় নেতা মানেই সে সামনের সারিতে বসবে এই মনোভাব পাল্টান।’
গৌতম দেব আরও বললেন, লক-ডাউনের সময় থেকে ‘কমিউনিটি কিচেন’, ‘রেড ভলান্টিয়ার’-র মতো উদ্যোগ নিয়েছে সিপিএম তা মানুষের বাহবা পেলেও তার ফল ভোটে বাক্সে পড়েনি। এতে কি আদৌ সংগঠনে লাভ হয়? অন্যদিকে, সাত সকালে প্রাতঃভ্রমণ থেকে শুরু হয়ে যায় দিলীপ ঘোষের প্রচার, ‘চায়ে পে চর্চা’ । এছাড়াও চলে সঙ্ঘের শাখায় প্রাত্যহিক কসরত। গৌতম দেবের সোজাসাপ্টা বক্তব্য,’শুধু কমিউনিটি কিচেন করে ভোট আসবে ভেবেছিলেন? প্রতিবেশীর সঙ্গেই যারা কথা বলেন না তাঁরা নেতা! আর কাজের লোকগুলোকে বসিয়ে দিলেন। আরএসএস ভোর থেকে কাজ করে গেল আর আপনারা নাকে সর্ষের তেল দিয়ে ঘুমলেন। এককালে যারা আমাদের জমি দিয়েছিল তাঁরা কেউ ভোট দেননি।’
অবসরের বয়স বেধে দেওর ভাবনা CPIM এ! কি নীতি বাঁধছে সিপিএম
‘পার্টির হাল দেখে কষ্ট কষ্ট হই’। অকপট গৌতম দেব। তাঁর উপলব্ধি,’মানুষের অভিমান আমরা বুঝতেই পারিনি। ভুল সংশোধনের কোনও পদক্ষেপ করিনি। কাজের লোকেদের বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে, তার উপায় ও বলে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথাই,’আমরা গো-হারা হারলাম। কিন্তু রুখে দাঁড়াতে হবে। শুকনো বক্তৃতা দিলে চলবে না। গরিব মানুষদের বোঝান। কমবয়সী কমরেডরা আসছেন। তাঁদের জায়গা দিন। তাঁরাই ভবিষ্যৎ। চিনের লাইন নিয়ে চললে হবে না। বাংলায় আলাদা ব্যাপার। নতুন ছেলেদের সামনের সারিতে আনুন।’ এই সমস্ত কথা ঐ সভাই উপস্থিত দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র শুনলেন, আগামী দিনে এই দাওয়াই CPIM কাজে লাগাই কিনা সেটাই দেখার।
