ওয়েব ডেস্ক: বিধি-নিষেধের দ্বিতীয় পর্ব শেষ হচ্ছে ১৫ জুন। রাজ্যে করোনা সংক্রমণ রুখতে বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না তা নিয়ে সোমবার সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তবে তার আগেই লোকাল ট্রেন চলাচল নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। তারই মধ্যে ট্রেন চালানোর অনুমতি চেয়ে রেলের তরফে রাজ্যের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানাল পূর্ব-রেল।
সূত্রের খবর, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেল উভয়েই রাজ্যকে চিঠি দিয়েছে অনুমতি চেয়ে। রাজ্যকে জানানো হয়েছে বহু লোক রুজির তাগিদে রাস্তায় বের হচ্ছে। এই অবস্থায় এ ভাবে কম ট্রেন চললে হিতে বিপরীত হতে পারে, বাড়তে পারে কোভিড। তাই রেল চাইছে পরিষেবা অবিলম্বে বাড়ানো হোক।
মে মাসে রাজ্যে করোনা বিধিনিষেধ চালুর পর থেকেই বন্ধ লোকাল ট্রেন পরিষেবা। যার ফলে শহরতলি থেকে কর্মস্থলে পৌঁছতে পারছেন না বহু মানুষ। লোকাল ট্রেন পরিষেবা কবে শুরু হবে তা নিয়ে উদগ্রীব তাঁরা। এরই মধ্যে রেলের তরফে লোকাল ট্রেন চলাচল শুরুর আবেদন জানানো হল।
অভিষেকের হাতে ৩৫ BJP নেতার ‘লিস্ট’ মুকুলের? চিন্তাই গেরুয়া শিবির
শুধু জনস্বার্থেই নয় রয়েছে অর্থনীতির প্রশ্নও। দীর্ঘদিন ধরে শুধুমাত্র স্টাফ স্পেশাল ট্রেনগুলি শুধু চালু থাকায় রেলের আয় তলানিতে ঠেকেছে। রেল সূত্রে খবর, শুধুমাত্র হাওড়া ডিভিশনে এপ্রিল মাসে প্রতিদিন ৫৬ লক্ষ টাকা আয় হত। এখান থেকেই রেলের দৈনিক ক্ষতির পরিমাণটা বোঝা সম্ভব।
রবিবার পূর্ব-রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক একলব্য চক্রবর্তী জানিয়েছেন, লোকাল ট্রেন চালানোর অনুমতি চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছেন শিয়ালদা শাখার মুখ্য বিভাগীয় আধিকারিক এসপি সিং। তিনি জানান, করোনা বিধিনিষেধ চলাকালীন রেল-কর্মীদের জন্য যে বিশেষ ট্রেনগুলি চালানো হচ্ছিল তাতে এখন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের চড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাতে বহু ট্রেনে দূরত্ব-বিধি মানা যাচ্ছে না। এর ফলে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। সত্যি তেমন হলে তার দায় বর্তাবে রেলের ওপর।
অটুট রইল বামফ্রন্ট, তবে আগামী দিনে টিকবে কি সংযুক্ত মোর্চা
পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, মে মাসে বিধিনিষেধ চালুর আগে পর্যন্ত ৮৮২টি লোকাল ট্রেন চলত শিয়ালদা শাখায়। আপাতত হাওড়া- শিয়ালদহের সবকটি শাখায় সব মিলে ৩৪২টি স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চলে। শুধুমাত্র জরুরী পরিষেবার সাথে যুক্ত কর্মীদেরই ওই ট্রেন গুলিতে ওঠার অনুমতি থাকেও প্রতিদিনই নিত্যযাত্রীরা ওই ট্রেনে উঠতে চান, ফলে রেল-কর্মী ও রেল পুলিশের সঙ্গে তাঁদের নিত্য বচসা বাধে। তাছাড়া কোনও ট্রেনে বেশি যাত্রী গাদাগাদি করে গন্তব্যে গেলে করোনার ঝুঁকি কমবে তো নাই বরং বাড়বে। এই কারণেই রেল পুনরায় পরিষেবা চালু করতে চাইছে। তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সেড়ে রেখেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
কর্মীদের আবেগে আঘাত লাগে এমন কোনও কাজ দল করবে না: কুনাল
এছড়া বড় হয়ে উঠেছে রেলের আর্থিক ক্ষতির দিকটিও। লোকাল ট্রেন না চললেও মেরামতি ও রক্ষণাবেক্ষণের সমস্ত কাজই করতে হচ্ছে রেলকে। বেতন দিতে হচ্ছে কর্মীদের। ফলে মোটা টাকা লোকসান হচ্ছে রেলের। তাই করোনা সুরক্ষা-বিধি মেনেই দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার দিকে এগোতে চায় পূর্ব-রেল। অপেক্ষা শুধু রাজ্যের সবুজ সিগন্যালের।
সূত্রের খবর, রাজ্যের তরফে সোমবার যান চলাচল সংক্রান্ত একটি বৈঠক হতে পারে। লোকাল ট্রেন থেকে মেট্রো সমস্ত গণ পরিবহণ বিষয়েই এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত হতে পারে।