Table of Contents
আজকাল মানসিক চাপ এবং ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেকেই ঘাড় ও মাথার পেছনের ব্যথার অভিযোগ করছেন। এই ব্যথাকে প্রায়শই সাধারণ ক্লান্তি বা ঘুমের অভাবের ফল বলে মনে করা হয়, কিন্তু কখনও কখনও এটিকে উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে। ব্যথা হঠাৎ শুরু হতে পারে বা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। অনেকে এটিকে কেবল পেশীর ক্লান্তি বলে মনে করেন, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে রক্তচাপ সম্পর্কিত কোনো সমস্যার।
তাই, এই ব্যথা কখন স্বাভাবিক এবং কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, তা বোঝা জরুরি। যদি ব্যথা বারবার হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো তথ্য জানা এবং পরীক্ষা করা গুরুতর সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঘাড় ও মাথার পেছনের ব্যথা কি উচ্চ রক্তচাপের একটি লক্ষণ হতে পারে?
ঘাড় ও মাথার পেছনের ব্যথা কি উচ্চ রক্তচাপের একটি লক্ষণ?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে, ঘাড় ও মাথার পেছনের ব্যথা কখনও কখনও উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ হতে পারে। যখন রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, তখন রক্তনালীগুলোর উপর চাপ বাড়ে, যা মাথা ও ঘাড়ে ব্যথার কারণ হতে পারে। এই ব্যথা প্রায়শই ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারে।
কিছু লোক এই ব্যথা সকালে বা মানসিক চাপের পরিস্থিতিতে বেশি অনুভব করেন। তবে, প্রতিটি ব্যথাই উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ নয়, কিন্তু যদি ব্যথা বারবার হয় এবং এর সাথে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি বা দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো লক্ষণ থাকে, তবে এটিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা এবং সঠিক যত্ন গুরুতর সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে।
ঘাড় ও মাথার পেছনের ব্যথা ছাড়াও আর কি কি লক্ষণ দেখা যায়?
উচ্চ রক্তচাপ শুধু ব্যথা হিসেবেই নয়, অন্যান্য লক্ষণের মাধ্যমেও প্রকাশ পেতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, ক্লান্তি এবং ঝাপসা দৃষ্টি। কিছু লোক হালকা মাথা ঘোরা বা সামান্য ভারসাম্যহীনতার অনুভূতিও অনুভব করতে পারেন।
আরও পড়ুন : আপনার কোমরের ব্যথা কোন কোন রোগের লক্ষণ হতে পারে? জানুন
দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং কখনও কখনও ঝাপসা দৃষ্টি বা উজ্জ্বল আলোতে সংবেদনশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই লক্ষণগুলো প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
এটি প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?
- নিয়মিত আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।
- মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম ও ধ্যান করুন।
- কম লবণযুক্ত সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
- অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
- মদপান ও ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
- ব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।