গ্যাস-অম্বলের সমস্যাই ভুগছেন? যেনে রাখুন ঘরোয়া টোটকা

by Chhanda Basak

ওয়েব ডেস্ক: আমরা যে খাবার খাই তা খাদ্যনালীর মধ্য দিয়ে আমাদের পেটে যায়। মানুষের পাকস্থলীর ভিতরে হাইড্রোকোলিক অ্যাসিড (hydrochloric acid) স্বাভাবিক ভাবেই নিঃসৃত হয়, যা খাদ্য হজম করার জন্য প্রয়োজনীয়। যখন গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলি হজম প্রক্রিয়াটির জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অ্যাসিড তৈরি করে, আপনি স্তনের হাড়ের নীচে জ্বলন্ত সংবেদন অনুভব করতে পারেন। এর দু’টি কারণ। প্রথমত, খাদ্যাভ্যাসে ত্রুটির কারণে অতিরিক্ত অ্যাসিড (acidity) নিঃসরণ। দ্বিতীয়ত খাদ্যনালী এবং পাকস্থলীর সংযোগস্থলে কোনও গঠনগত ত্রুটি। এতে পাকস্থলীতে নিঃসৃত অ্যাসিড উপরে উঠে আসে এবং অম্বল (gas boloating acidity) অনুভূত হয়। এই অবস্থাটি সাধারণত অ্যাসিডিটি হিসাবে পরিচিত।

গ্যাস-অম্বলের সমস্যাই ভুগছেন? যেনে রাখুন ঘরোয়া টোটকা

আবার পেটের অন্ত্রে অবস্থানকারী ব্যাকটেরিয়া সন্ধান প্রক্রিয়ায় গ্যাস উৎপাদিত হয়। অতিরিক্ত গ্যাস অনুভবের কারণ হল, খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস সেবন। যেমন, সোডা জাতীয় কোল্ডড্রিঙ্কস পান। অথবা খুব তাড়াহুড়ো করে খাদ্য অথবা পানীয় খাওয়া, গ্লাসে চুমুক দিয়ে জল না খেয়ে আলগা করে ঢেলে খাওয়া ইত্যাদি। এতে গ্যাস শরীরে প্রবেশ করে এবং পেট ফোলা অর্থাৎ গ্যাসের অনুভব হতে পারে। পেটে অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পেলে অর্থাৎ অপরিশোধিত অথবা অর্ধ পাচিত খাদ্য সেবনেও গ্যাস বাড়ে।

খাদ্যবস্তুর হজম বা পরিপাক বাধাপ্রাপ্ত হলে গলা-বুকে জ্বালা (heartburnacidity)অনুভব হয়। অতিরিক্ত তেল অথবা মশলা মিশ্রিত খাবার খেলে বা লোভ সামলাতে না-পেরে অতিরিক্ত খাবার খেলে এই বদহজমের হতে পারে। অনেক সময় পরিপাকপ্রণালীর কিছু গঠনগত সমস্যা অথবা হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকলে সেখান থেকেও এই অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে। আসলে, ঘরোয়া প্রতিকারগুলি দীর্ঘকাল ধরে অ্যাসিডিটি (acidity) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

ঘরোয়া প্রতিকারের সঙ্গে অম্লতা থেকে মুক্তি পান

অম্লতার ঘরোয়া প্রতিকার:

মৌরি বা সাউনফ: এক গ্লাস হালকা গরম পানির সাথে প্রায় ১ চা-চামচ মৌরি পাউডার অ্যাসিডিটি এবং এর লক্ষণগুলি যেমন অম্বল এবং বদ হজম থেকে মুক্তি দেয়।

কালো জিরা বীজ: জিরা বাটা সরাসরি চিবিয়ে নিন বা এক গ্লাস জলে ১ চা চামচ সেদ্ধ করে অ্যাসিডিটি উপশম করতে এটি পান করুন।

কালোজিরা গ্যাস্ট্রো-প্রতিরক্ষামূলক বীজ গুলি অ্যাসিডিটি এবং এর লক্ষণগুলি যেমন অম্বল, ব্যথা, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি হ্রাস এবং প্রতিরোধে কার্যকর।

কি করে বুঝবেন কিডনিতে পাথর জমেছে বা জমতে চলেছে? কীভাবে হবেন বিপদমুক্ত

লবঙ্গ: অম্লতা এবং এর লক্ষণগুলি যেমন পেট ফাঁপা, বদহজম, বমি বমি ভাব, গ্যাস্ট্রিক জ্বালা, ইত্যাদি থেকে মুক্তি পেতে এক টুকরো লবঙ্গ চুষুন।

গরম জল: খালি পেটে এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস হালকা গরম জল পান করা অম্লতা থেকে মুক্তি দেয়।

তরমুজের রস: এক গ্লাস তরমুজের রস অম্লতা দূর করতে কার্যকর এবং হজমের জন্যও ভাল।

এলাচ: প্রতিদিন ১ টি এলাচি চিবানো অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা রোধ এবং হজমে উন্নতি করতে সহায়তা করে।

বাটার মিল্ক: বাটার মিল্কের ল্যাকটিক অ্যাসিড পাকস্থলীর অম্লতাটিকে স্বাভাবিক করে তোলে এবং প্রশান্তি দেয়। কালো মরিচ এবং ধনিয়া দিয়ে এক গ্লাস জল আমাদের অম্লতার লক্ষণগুলি তাত্ক্ষণিকভাবে শিথিল করতে সহায়তা করে।

আদা: কাঁচা আদা চিবানো বা আদা চা পান করা অ্যাসিডিটি এবং এর লক্ষণগুলি প্রতিরোধ করে। এটি হজমে সহায়তা করে।

বর্ষায় হঠাৎ সর্দি-কাশি? এ সব ঘরোয়া সমাধানেই থাকুন সুস্থ

কলা: কলা অ্যাসিডিটি দূর করে এবং অম্বল থেকে মুক্তি দেয়। দুধ এবং কলা একটি মিশ্রণ অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ দমন করতে সাহায্য করে।

পেঁপে: পেঁপে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণ হ্রাস করে এবং অম্লতা থেকে মুক্তি দেয়।

আজওয়াইন: অজওয়াইন সেবন অম্লতা এবং পেট ফাঁপা থেকে মুক্তি দেয়। এটি হজমের জন্য খুব ভাল এবং একটি কার্যকর অ্যান্টি-অ্যাসিটিক এজেন্ট।

ঠাণ্ডা দুধ: এক গ্লাস ঠাণ্ডা দুধ পান করার সাথে সাথে অম্লতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বেকিং সোডা: ১/২ চা চামচ বেকিং সোডা ১/২ কাপ পানিতে মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি এবং অম্বল থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।

হলুদ: হলুদ যুক্ত খাবার সৃষ্ট অ্যাসিডিটি এবং অম্বল থেকে মুক্তি দেয়।

Copyright © 2025 NEWS24-BENGALI.COM | All Rights Reserved.

google-news