ওয়েব ডেস্ক: Kolkata Medical College Hospital থেকে ২৬টি প্রাণদায়ী টোসিলিজুম্যাব (Tocilizumab) ইনজেকশন ভায়েল চুরি নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গড়েছিল হাসপাতাল। এ বারে ফের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল স্বাস্থ্য ভবন।
সরাসরি স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশে নতুন করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঠিক হয়েছে দুই কমিটি সমান্তরালভাবে তদন্ত চালাবে। আগামী ৭২ ঘণ্টা বা তিনদিনের মধ্যে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, মেডিক্যাল কলেজে যে সাত সদস্যের কমিটি গড়া হয়েছে, তাতে রয়েছেন ফার্মাকোলজি ফরেনসিক-সহ নানা বিভাগের চিকিৎসক এবং নার্সিং বিভাগের অধিকারিকরা।
আইএনটিটিইউসি সেবা দলের পক্ষ থেকে বুধবারই চুরি নিয়ে বউবাজার থানায় একটি অভিযোগ দ্যায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য এই ২৬ টি জীবনদায়ী ইনজেকশন পরিকল্পিত ভাবে, শিশু বিভাগের দায়িত্বে থাকা সিস্টারকে বোকা বানিয়ে গায়েব করা হয়েছে। তারা চাইছেন এই দুর্নীতির যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বিষয়টি বুধবারেই কানে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। বুধবারের বৈঠকে তিনি বলেন, বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরের অধীনস্থ, তারাই দেখবে। মেডিক্যাল কলেজ নিজের বিষয়টি ভাল বোঝে। তারা নিজেরা বিষয়টি দেখবে। আমি কোনও রাজনৈতিক অবস্থান নেব না। মেডিক্যাল কলেজের হাতে আইনত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়াই আছে। তাঁরাই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এবার বেআইনিভাবে করোনার ওষুধ মজুত ও বণ্টনের অভিযোগ গম্ভীর ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে
এ দিকে, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, অভিযোগ পাওয়ার পরেই আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটি ইতিমধ্যেই দু’বার বৈঠকে বসেছে। প্রথমবার কি ভাবে তদন্ত হবে তার ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়েছে। তার পরের বার বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কমিটি তাদের রিপোর্ট পেশ করে যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।
কেন্দ্রের ১৮-৪৪ বছরের টিকা নীতি অযৌক্তিক ও বিরক্তিকর : সুপ্রিম কোর্ট
প্রসঙ্গত, টোসিলিজুমাব কোনও সাধারণ ইনজেকশন নয়। করোনা রোগীর ক্ষেত্রে এটিকে জীবনদায়ীই বলা চলে। রোগীর শরীরে সাইটোকাইনিনের ঝড় দেখা দিলে এই ইনজেকশন ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা। এক কথায় বললে, করোনা রোগীর শরীরে যে ইনফ্ল্যমেশান বা প্রদাহ তৈরি হয়, কোষে কোষে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরির বার্তা পৌঁছে দেয় টোসিলিজুমাব। ফলে এই মুহূর্তে এক কথায় তা মহার্ঘ্য। দামও প্রচুর টোসিলিজুমাবের। এক একটি টোসিলিজুমাবের বর্তমান বাজারমূল্য ৫০-৫৬ হাজার টাকা। কালোবাজারে এই ইনজেকশন দুই আড়াই লক্ষ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে। Kolkata Medical College Hospital থেকে চুরি যাওয়া ইনজেকশনের বাজারমূল্য কম করে ১০ লক্ষ টাকা।
হাসপাতাল বিধি অনুযায়ী, যে কোনও দামি ওষুধই ওয়ার্ড থেকে ফার্মেসিতে ‘ইন্ডেন্ট’ করে চেয়ে পাঠানোর আবেদন সবসময় প্রশাসনিক কর্তার নির্দেশে পাঠানো হয়ে থাকে। এমনকী টোসিলিজুম্যাবের মতো একটি ইঞ্জেকশন ব্যবহার নিয়ে বিস্তর বিধিনিষেধও রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকায় স্পষ্টই বলা রয়েছে, ওষুধটির অপব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না।
কিন্তু ফেসবুক পোস্টে যে সব নথি তুলে ধরা হয়েছে মূলত মেডিকেলের প্যাথলজি বিভাগের যে কাগজে নমুনা পরীক্ষার সুপারিশ লেখা হয়, সেই ‘স্পেসিমেন এগজামিনেশন ফর্ম’-এক চিকিৎসক ওই ওষুধ লিখেছেন গত এপ্রিলের বেশ কয়েকটি তারিখে।
অভিযোগ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের নার্সের থেকে নিয়েছেন ওই চিকিতসক,যিনি রাজ্যের এক প্রভাবশালী চিকিৎসক-বিধায়কের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ফলে এ নিয়ে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। প্রশ্ন উঠছে, রোগীর নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানোর কাগজে বারংবার এই মহার্ঘ ইঞ্জেকশন লেখা হল কিভাবে? কেন বা নিষেধ অমান্য করে পাঠানো হল ইঞ্জেকশন? যদিও এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি মেডিকেল কর্তৃপক্।
