Table of Contents
শীত অনেক স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। এই সময় গর্ভবতী মহিলাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত। গর্ভাবস্থায়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকের তুলনায় দুর্বল হতে পারে, যা সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা এবং ভাইরাল সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে, সামান্য অবহেলাও মা এবং অনাগত শিশু উভয়ের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। কখনও কখনও, মহিলারা ওষুধ খেতে অনিচ্ছুক হন। তাই, আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং অসুস্থ হওয়া এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস, উষ্ণ পোশাক, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং হালকা শারীরিক ক্রিয়াকলাপের মতো অনেক বিষয় গর্ভবতী মহিলাদের সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই নিবন্ধে, আসুন জেনে নেওয়া যাক সর্দি-কাশি প্রতিরোধে গর্ভবতী মহিলাদের কি খাওয়া উচিত এবং কি এড়ানো উচিত।
বিশেষজ্ঞরা কি বলেন?
জয়পুরের অ্যাপোলো স্পেকট্রা হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডাঃ মানিনী প্যাটেল ব্যাখ্যা করেন যে শীতকালে গর্ভবতী মহিলাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সর্দি-কাশি এড়াতে তাদের উষ্ণ খাবার খাওয়া উচিত। এর জন্য প্রতিদিন হালকা গরম দুধ, হলুদের দুধ, মসুর ডাল, শাকসবজি, স্যুপ, দই, খিচুড়ি এবং মৌসুমি ফল খাওয়া উচিত। তবে, যদি সর্দি বা কাশি সমস্যা হয়, তাহলে কমলালেবু, পেয়ারা এবং কলার মতো ঠান্ডা ফল এড়িয়ে চলা উচিত।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায়?
বিশেষজ্ঞরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। যদি আপনার তীব্র কাশি হয়, তাহলে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে একটি উষ্ণ আদা-তুলসীর ঝোল খাওয়া যেতে পারে। এটি সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয় এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় উষ্ণতাও সরবরাহ করে।
আরও পড়ুন : কাঁচা ডিম খেলে কি বেশি প্রোটিন পাওয়া যায়? বিশেষজ্ঞের উত্তর আপনাকে অবাক করে দেবে।
কোন খাবারগুলি এড়িয়ে চলা উচিত?
ডাঃ মানিনী প্যাটেলের মতে, সর্দি না থাকলেও, গর্ভাবস্থায় শীতকালে ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। খুব ঠান্ডা দই, জুস বা ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে চলুন। এছাড়াও, বাইরের ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন। যদি আপনার কাশি বা সর্দি হয়, তাহলে এগুলো সমস্যা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ না খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার কাশি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, অথবা যদি আপনার জ্বর বা শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে মা এবং শিশুর উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। অধিকন্তু, অতিরিক্ত চা এবং কফি পান ক্ষতিকারক হতে পারে, যা ঘুম এবং শিশুর বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।