মানসিক চাপ যখন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন শরীরে কি কি সমস্যা হয়ে জানুন

আজকাল মানসিক চাপ বা স্ট্রেস একটি সাধারণ বিষয়। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই মানসিক চাপ যদি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছায় তবে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে? চাপ যখন গুরুতর পর্যায়ে চলে যায়, তখন আমাদের শরীর বেশ কিছু সংকেত দেয়। আসুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক...

3 Min Read

আপনি কি জানেন যে মানসিক চাপের মাত্রা যখন বিপজ্জনক সীমার কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন শরীর নানা ধরনের সংকেত পাঠায়? এগুলোকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। ধীরে ধীরে এই অবস্থা আরও খারাপ হয়ে বিষণ্নতা বা আরও গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে। আসুন এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে জেনে নিই…

মানসিক চাপের সময় কী ঘটে?

মানসিক চাপের ফলে শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়। এগুলো শরীরের ‘ফাইট’ বা ‘প্রতিক্রিয়া জানানোর’ ক্ষমতাকে (fight response) সক্রিয় করে তোলে। কখনও কখনও শরীর তাৎক্ষণিক কিছু সংকেত দেয়, যেমন—হাতের তালু ঘামা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং হঠাৎ পেটের গোলমাল। তবে চাপের মাত্রা যখন বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন শরীর আরও কিছু লক্ষণ প্রকাশ করে… আসুন সেগুলো জেনে নিই।

পেটের সমস্যা: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের ফলে পেট ব্যথা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। চাপের সময় নিঃসৃত কর্টিসল হরমোন হজম প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। এটি নিয়ন্ত্রণ না করলে ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’ (IBS)-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি প্রায়ই পেটের সমস্যায় ভোগেন, তবে পাকস্থলী ও অন্যান্য অঙ্গের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে একজন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

চুল পড়া: ক্রমাগত মানসিক চাপ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রকে ব্যাহত করে। এর ফলে দ্রুত চুল পড়তে থাকে বা চুল অনেক পাতলা হয়ে যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে হাতের মুঠোয় একগুচ্ছ চুল উঠে আসতে পারে। সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরই এই সমস্যা দেখা দেয়।

দাম্পত্য জীবনে প্রভাব: মানসিক চাপের কারণে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। মানসিক চাপ, ক্রমাগত ক্লান্তি এবং পেটের সমস্যা পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণে শুক্রাণুর গুণমান ও পরিমাণ—উভয়ই কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন : চুল পড়া রোধ করুন—ঘরেই তৈরি করুন এই হেয়ার মাস্ক

ব্রণ—মানসিক চাপ কেবল আমাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরই নয়, বরং ত্বকের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ত্বকে সিবাম (sebum) বা তেলের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত তেল এবং ধুলো-ময়লা মিলে ত্বকের লোমকূপের মুখ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে ব্রণ দেখা দেয় বা ব্রণের প্রকোপ বেড়ে যায়।

হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি—বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে এবং রক্তে শর্করা ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে হৃদস্পন্দন দ্রুত হয় এবং রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। রক্তচাপ সংক্রান্ত এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের কারণ হতে পারে; উচ্চ রক্তচাপকে প্রায়শই ‘নীরব ঘাতক’ (silent killer) হিসেবে অভিহিত করা হয়।

Share This Article