ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন এক কোয়া রসুন খাওয়া—এটি কি সত্যিই কার্যকর? ভারতে ক্যান্সারের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের জন্য মানুষ নানা ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন। তবে এসব পদ্ধতি ঠিক কতটা কার্যকর, তা নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। অনেকে ক্যান্সার থেকে সুরক্ষার দাবিটি সত্য নাকি নিছক ধারণা—তা যাচাই না করেই প্রতিদিন রসুন খাওয়া শুরু করেন। রসুনে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকলেও, এটিকে ক্যান্সারের নিরাময়কারী হিসেবে মনে করা ভুল।
রসুন আমাদের অনেক রোগ ও শারীরিক সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে, তবে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে এটি পুরোপুরি কার্যকর—এমনটা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। আসুন দেখি, এই দাবির সত্যতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ কী বলছেন।
বিশেষজ্ঞ কী বললেন?
ডা. মণীশ সাহনি (কনসালট্যান্ট সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট, কৈলাশ দীপক হাসপাতাল) জানান যে, রসুনের অনেক স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে। এতে ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি-এর মতো বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। এছাড়া এতে সালফার-যুক্ত যৌগ—যেমন অ্যালিসিন (allicin) ও এস-অ্যালিলসিস্টাইন (S-allylcysteine)—থাকে, যাদের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এবং প্রদাহ-বিরোধী (anti-inflammatory) গুণাবলি রয়েছে। এই গুণগুলো আমাদের শরীর ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়।
রসুন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই বোঝা প্রয়োজন যে, রসুন ক্যান্সারের নিরাময়কারী—এমন ধারণাটি একটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। এখন পর্যন্ত মানুষের ওপর পরিচালিত কোনো গবেষণাতেই এটি প্রমাণিত হয়নি যে রসুন ক্যান্সার নিরাময় করতে পারে বা এককভাবে ক্যান্সার-বিরোধী চিকিৎসা হিসেবে কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে—সপ্তাহে প্রায় ৫ থেকে ১০ গ্রাম বা তার বেশি রসুন খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সার এবং নির্দিষ্ট কিছু ধরণের কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি সামান্য পরিমাণে কমতে পারে।
আরও পড়ুন : বর্ষায় কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন? সুস্থ থাকার নিয়মগুলো জেনে নিন
রসুনের অন্যান্য উপকারিতা
রসুনে অ্যালিসিন, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে; এর ফলে, রসুন খাওয়া সাধারণ সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সহায়তা করে বলে মনে করা হয়।
রসুন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। এটি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদনে সহায়তা করে, যা রক্তনালীগুলোকে শিথিল রাখে এবং এর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি কিছুটা হলেও ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। পাশাপাশি, এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপও কমাতে পারে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ হওয়ায়, ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে শরীরের যে ক্ষতি হয়, তা প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।