পুরুষদের মধ্যে যেসব ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে প্রস্টেট ক্যান্সার(prostate cancer) অন্যতম। এর একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এটি প্রায়শই কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। ফলে, রোগটি অনেক সময় ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার বা অগ্রসর হওয়ার পরেই ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন যে, প্রস্রাবজনিত সমস্যাকে কেবল বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করে উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে; এমন লক্ষণ থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
দিল্লীর পিএসআরআই (PSRI) হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, হেমাটোলজিস্ট এবং অনকোলজিস্ট ডা. অমিত উপাধ্যায় উল্লেখ করেন যে, প্রস্টেট ক্যান্সার(prostate cancer) সবসময় স্পষ্ট লক্ষণ দিয়ে শুরু হয়—এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। তাঁর মতে, অনেক রোগীই প্রাথমিক পর্যায়ে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করেন এবং কোনো অস্বস্তি অনুভব করেন না।
তাই, লক্ষণ প্রকাশের জন্য অপেক্ষা না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি—বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য।
প্রস্টেট ক্যান্সারের ৫টি লক্ষণ যা আপনার উপেক্ষা করা উচিত নয়
ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, বিশেষ করে রাতে
যদি রাতে প্রস্রাবের জন্য ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যায় বা হঠাৎ প্রস্রাবের হার বেড়ে যায়, তবে এটি প্রস্টেট-জনিত কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্রাব করতে অসুবিধা
প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা, প্রস্রাবের দুর্বল প্রবাহ, চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন হওয়া বা মূত্রথলি পুরোপুরি খালি হয়নি এমন অনুভূতি—এসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত
যদি প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত দেখা যায়—এমনকি মাত্র একবারও—তবে এটিকে স্বাভাবিক বিষয় বলে ভুল করবেন না। এটি প্রস্টেট ক্যান্সারসহ বেশ কিছু গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
কোমরের নিচের অংশ, নিতম্ব বা পেলভিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
কোমরের নিচের অংশ, নিতম্ব বা পেলভিক অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা—বিশেষ করে তার সাথে প্রস্রাবজনিত সমস্যা থাকলে—অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অকারণে ওজন কমে যাওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
ডায়েট বা অন্য কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে ক্লান্তি অনুভব করা—এসব বিষয় উপেক্ষা করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন : আপনার কনুইয়ের কি কালো দাগ, দূর করুন এখনি, জানুন কিছু ঘরোয়া উপায়
কাদের ঝুঁকি বেশি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। যাদের পরিবারে এই রোগের ইতিহাস রয়েছে (যেমন—বাবা বা ভাইয়ের প্রোস্টেট ক্যান্সার থাকা), তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি। এমন ব্যক্তিদের কোনো উপসর্গ না থাকলেও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং প্রোস্টেট স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডা. অমিত উপাধ্যায় উল্লেখ করেন যে, এই উপসর্গগুলোর অর্থই যে প্রোস্টেট ক্যান্সার—তা কিন্তু নয়; অনেক ক্ষেত্রে অন্য কোনো সাধারণ শারীরিক সমস্যার কারণেও এমনটা হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি শনাক্ত করা গেলে কার্যকর ও সফল চিকিৎসার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
তাই শরীরের কোনো পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে পুরুষদের উচিত সেটিকে কেবল বয়সের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে উপেক্ষা না করা। সময়মতো স্ক্রিনিং এবং সঠিক চিকিৎসা সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।
দাবিত্যাগ: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে এবং পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।