Table of Contents
নখ কামড়ানো একটি সাধারণ কিন্তু ভুল অভ্যাস, যা প্রায়শই মানসিক চাপ, স্নায়বিক দুর্বলতা বা একঘেয়েমি থেকে শুরু হয়। অনেকে এটিকে একটি ছোটখাটো অভ্যাস হিসেবে উপেক্ষা করেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। নখে সহজেই ময়লা, ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণু জমে, যা সরাসরি মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। এতে মুখ, পেট এবং ত্বক সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এছাড়াও, এই অভ্যাসটি দাঁতের গঠন এবং মাড়ির স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই অভ্যাসটি শিশু এবং তরুণদের মধ্যে ধীরে ধীরে একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। তাই সময়মতো এর ক্ষতি সম্পর্কে বোঝা জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, দাঁত দিয়ে নখ কাটার কারণে কি কি রোগ হয় এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়।
যারা দাঁত দিয়ে নখ কাটেন তাদের কি কি রোগ হয়?
আরএমএল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ডঃ সুভাষ গিরি ব্যাখ্যা করেন যে, দাঁত দিয়ে নখ কাটার ফলে পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, কারণ নোংরা নখের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে। এতে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা এবং বমির মতো সমস্যা হতে পারে। মাড়ি ফোলা, রক্তপাত এবং দাঁতের সংক্রমণও সাধারণ সমস্যা। ক্রমাগত নখ কামড়ানোর ফলে দাঁত ভেঙে যেতে পারে বা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে পারে, যা আঁকাবাঁকা দাঁতের কারণও হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে দাঁতের গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নখের চারপাশে ত্বকের সংক্রমণ এবং ফোলাও দেখা যায়। মানসিকভাবে, এই অভ্যাসটি মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং ব্রুক্সিজমের (দাঁত কিড়মিড় করা) মতো সমস্যার সাথে জড়িত। এছাড়াও, নখের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং নেলপলিশের রাসায়নিক পদার্থ মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
নখ কামড়ানোর অভ্যাস কীভাবে ছাড়বেন?
নখ কামড়ানোর অভ্যাস ছাড়ার জন্য, সবার আগে এর কারণ বোঝা জরুরি। মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করুন। নখ ছোট এবং পরিষ্কার রাখুন যাতে সেগুলো কামড়ানোর ইচ্ছা না হয়।
আরও পড়ুন : শীতকালে আঙুল ফুলে যায় এবং ব্যথা করে? এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলো উপশম দেবে
চাইলে নখে তেতো স্বাদের ওষুধ বা নেলপলিশ লাগাতে পারেন। হাত ব্যস্ত রাখার জন্য একটি বল, কলম বা যেকোনো ছোট খেলনা ব্যবহার করুন। ধীরে ধীরে নিজেকে মনে করিয়ে দিন যে এই অভ্যাসটি ক্ষতিকর। প্রয়োজনে একজন কাউন্সেলর বা ডাক্তারের সাহায্য নিন।
এটিও গুরুত্বপূর্ণ
- মুখ এবং হাতের পরিচ্ছন্নতার যত্ন নিন।
- চাপ বাড়লে বিরতি নিন।
- শিশুদের এই অভ্যাসের প্রতি সময়মতো মনোযোগ দিন।