ওয়েব ডেস্ক: বুধবার ভারতে মুকুটে বসল এক নতুন পালক। একটি স্বল্প পরিসীমার ব্যালিস্টির ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত। নয়া ক্ষেপণাস্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছে প্রলয়। এদিন ওড়িশার উপকূলে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে এই ক্ষেপণাস্ত্রটির সফল পরীক্ষা হয়। এই সাফল্যের পর টিম DRDO-কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
প্রলয়ের সফল উৎক্ষেপণের পর DRDO কে টুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। টুইটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লিখেছেন, “নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণের জন্য টিম DRDO কে অসংখ্য শুভেচ্ছা জানাই। দ্রুত আধুনিক সার্ফেস-টু-সার্ফেস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা ও তার সফল উৎক্ষেপণের জন্য অভিনন্দন জানাই সকলকে। আমরা একটি নতুন কৃতিত্ব অর্জন করলাম।”
প্রলয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের খুঁটিনাটি
১. একটি কৌশলগত স্বল্প পরিসরের প্রলয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন।
২. প্রলয় ৩৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটারের স্বল্প পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ৫০০ থেকে ১০০০ কিলোগ্রাম ভার বহনে সক্ষম।
৩. সংবাদ সংস্থা এএনআই থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রলয় একটি সার্ফেস টু সার্ফেস মিসাইল। এই মিসাইল এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রকে সহজেই ধ্বংস করা যায়। লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব।
৪. মোবাইল লঞ্চার থেকেই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। এতে অত্যাধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম এবং ইন্টিগ্রেটেড অ্যাভিওনিক্স অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৫. ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি পৃথ্বী ডিফেন্স ভেহিকেল প্রোগ্রামের এক্সোঅ্যাটমস্ফিয়ারিক ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের উপর ভিত্তি করে তৈরি।
৬. এই দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রটিকে চিনের ডংফেং ১২ এবং রাশিয়ার 9K720 ইস্কান্ডারের সাথে তুলনা করা যেতে পারে, উভয়ই স্বল্প-পাল্লার কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
৭. ভারত অগ্নি প্রাইম পারমাণবিক-সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর কয়েকদিন পরেই প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়েছে। অগ্নির পরিসীমা, ১০০০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার।
ভারতের রাস্তায় আসতে চলেছে টেসলার ৭ টি মডেল, সম্মতি জানালো কেন্দ্র
প্রসঙ্গত, কদিন আগেই অগ্নি সিরিজের নয়া মিসাইল ‘Agni Prime’-এর সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে ভারত। ১ থেকে ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত নিখুঁতভাবে নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম ‘অগ্নি প্রাইম’। নতুন প্রজন্মের হওয়ার দরুন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত হালকা মিশ্র ধাতুতে তৈরি। ফলে অগ্নি-৩-এর থেকে এর ওজন ৫০ শতাংশ কম।ওজনে হালকা হওয়ার ফলে রেল বা সড়ক পথে বিশেষ সামরিক যান থেকে মিসাইলটি ছোঁড়া যাবে। বিশেষ করে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনা নৌবহরের বিরুদ্ধে হামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই অস্ত্রটি। এমনটাই মনে করছে দেশের সামরিক বিশেষজ্ঞরা।