মাতঙ্গিনী হাজরা অসমের! বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করতে গিয়ে বিতর্কে মোদী

by Chhanda Basak

ওয়েব ডেস্ক: স্বাধীনতা দিসবের মঞ্চে বড় ভুল করে ফেললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।’অসমে মাতঙ্গিনী হাজরার পরাক্রম’, এই মন্তব্য করে কেন্দ্র করে চলছে তোলপাড়। পশ্চিমবঙ্গের তমলুক জেলার হোগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করা এই স্বাধীনতা সংগ্রামীকে কেন অসমের বলে চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী? স্বাধীনতা দিবসের দিন নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে কেন এই বিভ্রান্তিকর তথ্য? ইতিমধ্যেই এই সমস্ত প্রশ্নের ঝড় উঠতে শুরু করেছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন কোটি কোটি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে রাখা বক্তব্যে মাতঙ্গিনী হাজরাকে অসমের বলে সম্বোধন করায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ রাজ্যের বাসিন্দারা। এই ভুলকে বাংলার অপমান বলে দাবি করেছে তৃণমূল।

মাতঙ্গিনী হাজরা অসমের! বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করতে গিয়ে বিতর্কে মোদী

প্রধান মন্ত্রী ঠিক কি বলেছিলেন ?

তিনি বলেন, ‘অমৃত মহোৎসবের এই পবিত্র মুহূর্তে দেশের জন্য বলিদান দেওয়া, লড়াই করা বীর-বীরাঙ্গনাদের প্রণাম করছে দেশবাসী। স্বাধীনতার জন্য সর্বস্ব বলিদান দেওয়া নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু হোক, চন্দ্র শেখর আজাদ হোক, আসফাকউল্লা খান, রানি লক্ষ্মীবাঈ হোক বা রানি গাইডিনলিউ হোক বা অসমে মাতঙ্গিনী হাজার পরাক্রম হোক…সবাইকে আজ দেশবাসী মনে করছেন। দেশবাসী তাঁদের কাছে ঋণী।’

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ টুইটে লিখেছেন, ‘মাতঙ্গিনী হাজরা অসমের? প্রধানমন্ত্রী কি পাগল হলেন? নিজে জানেন না। আবেগ নেই। অন্যের লিখে দেওয়া ভাষণ পড়ে নাটক করতে গেলে এই হয়। এটা বাংলার প্রতি অপমান। প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা চান। ওঁদের পূর্ব মেদিনীপুরের গদ্দার ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিন।’

প্রধান শত্রু বিজেপি হলেও, তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলাবে না CPIM, স্পষ্ট বার্তা ইয়েচুরি

এই মন্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার জন্য সবথেকে বেশি রক্ত দিয়েছে বাঙালি। ইতিহাস বিকৃত করা BJP-র DNA-র মধ্যে রয়েছে। নতুন করে ভারতের ইতিহাস লেখার অপচেষ্টা করছে BJP। এটা বাংলা এবং বাঙালির চূড়ান্ত অপমান।’

বাংলার ভুল ত্রিপুরায় করবেন না, সিপিএমকে বার্তা Bratya-র

প্রসঙ্গত, মাতঙ্গিনী হাজরার বাড়ি মেদিনীপুরের হোগলা গ্রামে। তাঁর স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে পুরোটাই জুড়ে ছিল মেদিনীপুর। কুণাল ঘোষের টুইটের পর তৃণমূলের হ্যান্ডেল থেকেও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা চাওয়ার দাবি করা হয়। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রাজ্য BJP সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এই ধরনের ছোটখাটো ভুল হতে পারে। এই নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করার কিছু নেই।’ তাঁকে অবশ্য পাল্টা জবাব দিয়েছেন কুণাল। বলেছেন, ‘এ যদি বাংলার অপমান না হয়, তাহলে কার অপমান? দিলীপ বাবুরা নিজের বাঙালি পরিচয় বিক্রি করে দিয়েছেন।’ তবে, ইতিহাসবিদদের অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর এহেন ভুল নিয়ে কিছুটা অবাকই হয়েছেন।

Copyright © 2025 NEWS24-BENGALI.COM | All Rights Reserved.

google-news