এবার কি মিশন ২০২৪? মঙ্গলবার পাওয়ারের ডাকা বিরোধীদের বৈঠক ঘিরে জল্পনা

by Chhanda Basak

ওয়েব ডেস্ক: ‘মিশন ২০২৪’ সফল করতে মোদী-বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বিরোধীরা। বিরোধী ঐক্যে শান দিতে মঙ্গলবার বৈঠক ডাকলেন NCP নেতা শরদ পাওয়ার। মাত্র ২ সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বভারতীয় রাজনীতির অধুনা ‘চাণক্য’ হিসেবে পরিচিত শরদ পাওয়ারের সঙ্গে জোড়া বৈঠক করেছেন প্রশান্ত কিশোর। একুশের বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সাফল্য এনে দেওয়া ভোট-কুশলী পিকে-কেই এতদিন পর্যন্ত বিরোধী জোটের প্রধান রূপকার বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু, সোমবার এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই সমস্ত জল্পনা নস্যাৎ করে দেন আইপ্যাকের প্রাক্তন সংগঠক। ‘মিশন ২০২৪’-র লক্ষ্যে এই বৈঠক বলে মনে করা হচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এককাট্টা করার প্রয়াস বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহলের একাংশ।

এবার কি মিশন ২০২৪? মঙ্গলবার পাওয়ারের ডাকা বিরোধীদের বৈঠক ঘিরে জল্পনা

এদিকে, প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে বৈঠকের পরই যেভাবে বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে বৈঠক ডাকলেন শরদ পাওয়ার, তা রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মিশন বাংলার পর তা হলে কি এ বার মিশন ২০২৪? ভোট-কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে NCP নেতা শরদ পাওয়ারের বৈঠক উস্কে দিচ্ছে এই জল্পনাই। মুম্বাইয়ে শরদ পাওয়ারের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন প্রশান্ত। প্রায় তিন ঘণ্টার লাঞ্চ-বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি কেউই। এরপর ফের দিল্লিতে তাঁদের বৈঠকে জল্পনা আরও বেড়েছে ‘মিশন ২০২৪’ নিয়ে।

শরদের পাওয়ারের আমন্ত্রণ গিয়েছে আরজেডি নেতা মনোজ ঝাঁ, আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং, কংগ্রেস নেতা বিবেক টঙ্কা ও কপিল সিব্বল, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুখ আবদুল্লা-সহ ১৫টি দলের কাছে। তবে কপ্পিল সিব্বল আমন্ত্রণরক্ষা করবেন না বলে জানিয়েছেন। তামিলনাড়ুর ডিএমকে-র প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন ত্রিচুরি শিবা। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল ব্যক্তিত্ব যেমন জাভেদ আখতার, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেশি ও প্রাক্তন বিচারপতি এপি সিং প্রমুখকে ডাকা হয়েছে বৈঠকে।

উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য বানানর বিরোধিতায় সরকারের পাশে দাঁড়াল বাম-কংগ্রেস

২০২৪-এ মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের লোকসভা নির্বাচনও। জল্পনা দানা বাঁধছে, তবে কি মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস শিবিরের হয়ে ঘুঁটি সাজাবেন প্রশান্ত? নাকি লোকসভা ভোটে বিরোধী জোট মজবুত করতে তাঁর পরামর্শ নেবেন প্রবীণ NCP নেতা? প্রশান্তের ঘনিষ্ঠ মহলের অবশ্য দাবি, এটা একেবারেই একটি থ্যাঙ্কসগিভিং ট্রিপ। পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও এমকে স্ট্যালিনের বিপুল জয়ের পিছনে বড় ভূমিকা ছিল প্রশান্তের। রাজনৈতিক মহলে খবর, একুশে বাংলা জয়ের পর এবার লক্ষ ২০২৪ সালের দিল্লি দখলের লড়াই। আর সেই লক্ষ্যেই এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন পিকে।

সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে Prashant Kishor জানিয়েছেন, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ লড়াই গড়ে তুলতে তিনি কোনও বিরোধী জোটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর সাফ কথা, “আমার মনে হয় না কোনও তৃতীয় বা চতুর্থ ফ্রন্ট বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হবে।” এ দিনের সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসের অবস্থানেরও তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। প্রশান্ত কিশোর বলেন, “কংগ্রেসকে বুঝতে হবে (ওদের) কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে এবং সেটার সমাধান সূত্র বের করতে হবে।”

ভুলগুলিকে উপলব্ধি না করতে পেরে আরও বড় ভুলের জন্ম দিয়েছে CPIM: সীতারাম ইয়েচুরি

শেষে তিনি যোগ করেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে সব ধরনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। কোনও অজুহাত খাড়া করা যাবে না। প্রশান্ত কিশোরের কথায়, “একটি রাজনৈতিক দলকে সব ধরনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধেই লড়তে হবে। প্রত্যেকটা দলই এটা করে। সবার উপর সত্য হচ্ছে, যদি আপনি মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেন, তখন বাকি সবকিছু পিছনের সারিতে চলে যায়” তবে প্রশান্তের এহেন বক্তব্যে জল্পনা থামছে না। অনেকের মতে, মোদী বিরোধী জোট গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা স্পষ্ট। তবে দক্ষ ভোট কৌশলী প্রশান্ত এখনই সবটা ভাঙতে চান না।

Copyright © 2025 NEWS24-BENGALI.COM | All Rights Reserved.

google-news