ওয়েব ডেস্ক: বামপন্থীরা দুর্বল হলেও এখনো বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দারিয়ে চলেছে। বৃহস্পতিবার নদীয়ার নবদ্বীপে রাজ্য সম্মেলনের প্রস্তুতিতে গিয়ে এমনই দাবি জানালেন CPIM নেতা সুজন চক্রবর্তী। দিল্লির BJP সরকার ও রাজ্যের TMC সরকার কে কার্যত একযোগে কাঠগড়ায় তুলে তিনি বললেন, ‘দিল্লি বলছে আমায় দেখ, রাজ্য বলছে আমায় দেখ! কেন্দ্র ও রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা দুটি রাজনৈতিক দলের টানাপোড়েনের মাঝে পড়ে সাধারণ মানুষ আজ বিপদগ্রস্ত অবস্থায় দিনযাপন করছে। এই পরিস্থিতিতে বিপদগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে ভরসা নিয়ে একমাত্র দাঁড়াতে পারে বামপন্থীরা।’
তিনি আরও বললেন, বামপন্থীরাই সাধারণ মানুষের শক্তি, ‘বামেরা শূন্য হয়ে গিয়েছে বলে বর্তমানে আনন্দ উপভোগ করছে কেন্দ্রের BJP ও রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বামপন্থীরা দুর্বল হয়ে গেলেই বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষের উপরে নেমে আসে রাজনৈতিক অত্যাচার। রান্নার গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া। মানুষে-মানুষে বিভেদ-বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বামপন্থীরাই সাধারণ মানুষের বিবেক, সাধারণ মানুষের প্রধান শক্তি। মানুষের বিপদে, মানুষের পাশে ভরসা হয়ে দাঁড়াতে পারে তারা।’ এ প্রসঙ্গে রেড ভলান্টিয়ার্সের উদাহরণ টেনে সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘করোনার মত আবহে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রমাণ করে দিয়েছে বামপন্থী রেড ভলান্টিয়ার্সরা। আগামী দিনেও সর্বদা সাধারণ মানুষের স্বার্থে তাদের পাশে থেকে কাজ করে যাবে বামপন্থীরা।’
কেন্দ্র সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতাতে এবার কি রাজ্যে এক মঞ্চে সিপিএম-তৃণমূল-কংগ্রেস!
বামপন্থী ছাত্র ফেডারেশনের উদ্যোগে আগামী ২২-২৪ সেপ্টেম্বর দলের রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে নবদ্বীপ শহরে। এই প্রথমবার নবদ্বীপে। CPIM-এর রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। তারই প্রস্তুতিতে এদিন নবদ্বীপ যান CPIM নেতা সুজন চক্রবর্তী। রাজ্য সম্মেলনের বিষয়ে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি রাস্তায় নেমে জনসংযোগেরও করেন তিনি। অন্যান্য বামপন্থী ছাত্র-নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নবদ্বীপের রাজপথে নেমে রীতিমতো পায়ে হেঁটে অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। নবদ্বীপ তেঘরিপাড়া সংলগ্ন CPIM-এর দলীয় কার্যালয় থেকে বামেদের অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করেন বামপন্থী ছাত্র ফেডারেশনের সদস্যরা। তারই অগ্রভাগে ছিলেন সুজন চক্রবর্তী।