Table of Contents
ডিজিটাল ডেস্ক: পায়ের আঙুলে ব্যথা, গোড়ালিতে জ্বালা, অস্থিসন্ধি ফুলে গিয়ে যন্ত্রণা- এসবই শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার লক্ষণ। সবার শরীরেই তৈরি হয় ইউরিক অ্যাসিড। কিডনি তা প্রস্রাবের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়। নারী ও পুরুষের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা আলাদা। ইউরিক অ্যাসিড মহিলাদের মধ্যে ৩.৫ থেকে ৬ mg/dL পর্যন্ত স্বাভাবিক। পুরুষদের স্বাভাবিক মাত্রা ৪ থেকে ৬.৫ mg/dL পর্যন্ত। শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়ে গেলে হাত-পায়ের অস্থিসন্ধিতে জমা হয়। অস্থিসন্ধির ব্যথা সহ্য করা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, আমাদের খাদ্যতালিকায় কিছু পিউরিন যুক্ত খাবার রয়েছে। এইসব খাবার শরীরে পৌঁছে যাওয়ার পর দেহে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। আর এই প্রসঙ্গে জেনে রাখা ভালো যে, প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরেই কিন্তু ইউরিক অ্যাসিড রয়েছে। শুধু তা বিপদ সীমার উপরে গেলেই চিত্তির!
তবে ভালো খবর হল, কিছু প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করেই ইউরিক অ্যাসিডের প্রকোপ কমানো সম্ভব হবে। এমনকি এই সকল ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করলে আপনার ওষুধের উপর নির্ভরতাও কমবে। তাই আর দেরি না করে এইসব ‘হোম রেমেডিজ’ সম্পর্কে জেনে নিন।
১. পর্যাপ্ত জল পান করুন
ইউরিক অ্যাসিডকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করতেই হবে। দেহে জলর ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হলেই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যাবে। ফলে ব্যথা, ফোলা কমতে সময় লাগবে না। তাই তো দৈনিক ৩ থেকে ৪ লিটার জল পান করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। এই কাজটুকু করতে পারলেই হাতেনাতে মিলবে সুফল।
২. ওজন কমান
ওজনকে স্বাভাবিকের গণ্ডিতে ধরে রাখতে পারলে অনায়াসে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যাকে অনায়াসে বাগে আনা যাবে। অপরদিকে ওজন যদি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকে, তাহলে এই সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গাঁটে গাঁটে ব্যথার মারে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। তাই সুস্থভাবে বাঁচতে চাইলে ওজনকে যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে ফেলতে হবে। এতেই সুস্থ থাকার পথ প্রশস্থ হবে।
আরও পড়ুন : শরীরে প্রোটিনের ঘাড়টি কমাতে এই ৮টি দেশি সবজির সামনে মুরগি-ডিমও ব্যর্থ
৩. মদ্যপান পরিহার করুন
মদের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে গোটা একটা বই লেখা হয়ে যাবে। এমনকি ইউরিক অ্যাসিডকে বিপদ সীমার উপর নিয়ে যেতেও এর জুড়ি মেলা ভার। তাই নিয়মিত মদ্যপান করার বদভ্যাস থাকলে আজই ছাড়ুন।
৪. কফি পান করুন
কফিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফিন। সেই সঙ্গে এই পানীয়ে বেশ কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও খোঁজ মেলে। এই দুই উপাদানের যুগলবন্দীতে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিক থাকতে বাধ্য হয়। তাই আজ থেকেই নিয়ম করে দিনে ২ কাপ কফি পান করুন। আশা করছি, এতেই রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমবে। এমনকি ব্যথা, বেদনাও আর সইতে হবে না।
আরও পড়ুন : Health Benefits Of Turmeric Milk: 5টি কারণ কেন আপনাকে প্রতি রাতে ‘হলদি ওয়ালা দুধ’ পান করতে হবে
৫. সমস্যা মেটাবে ভিটামিন সি
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভিটামিন সি যুক্ত খাবার পাতে রাখতে পারলেই ইউরিক অ্যাসিডের মতো সমস্যাকে হেলায় হারিয়ে দেওয়া যায়। তাই প্রতিদিন নিজের পছন্দ মতো একটা করে লেবু খাওয়া মাস্ট। এছাড়া আপেল, পেয়ারা এবং আমলকীর মতো ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেলেও ইউরিক অ্যাসিডের খেলা শেষ হয়ে যাবে। তাই এই রোগ নিয়ে আর অহেতুক দুশ্চিন্তা করে রাতের ঘুম লাটে তুলবেন না।
Disclaimer: এই নিবন্ধটি সাধারণ তথ্যের জন্য, যে কোনও প্রতিকার গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিন।