Table of Contents
অনেকেই চুলের গোড়ায় বারবার ব্রণ হওয়ার সমস্যায় ভোগেন। মানুষ প্রায়শই এটিকে একটি ছোটখাটো সমস্যা মনে করে উপেক্ষা করে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই সমস্যাকে অবহেলা করলে মাথার ত্বক ও চুলের গুরুতর সমস্যা হতে পারে। ক্রমাগত ব্রণের কারণে ফলিকল ইনফেকশন, মাথায় ফোঁড়া, চুল পড়া, স্ক্যাল্প ডার্মাটাইটিস এবং সিস্ট বা অ্যাবসেসের মতো সমস্যা হতে পারে।
তাই মাথার ত্বকের ব্রণকে উপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে। সঠিক সময়ে মনোযোগ দিলে এবং সতর্কতা অবলম্বন করলে মাথার ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায়। চুলের গোড়ায় বারবার ব্রণ হওয়ার কারণ এবং তা প্রতিরোধের উপায় জানা জরুরি।
চুলের গোড়ায় বারবার ব্রণ হওয়ার কারণ কি?
ম্যাক্স হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ সৌম্যা সচদেবা ব্যাখ্যা করেন যে, চুলের গোড়ায় ব্রণ হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো তেল, ঘাম এবং ময়লা জমে থাকা, যা চুলের গোড়ায় ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়াও, ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণেও ব্রণ হতে পারে। কখনও কখনও শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা হেয়ার অয়েলের মতো পণ্যের প্রতি অ্যালার্জি বা প্রতিক্রিয়ার কারণেও ব্রণ হতে পারে।
বয়ঃসন্ধি, মাসিক বা মানসিক চাপের মতো হরমোনের পরিবর্তনও চুলের গোড়ায় প্রদাহ এবং ব্রণের কারণ হয়। এছাড়াও, ঘন ঘন চুলের গোড়ায় চুলকানো বা টানলে সমস্যাটি আরও বাড়তে পারে। এই কারণগুলো এড়াতে প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতার দিকে মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কি করবেন?
চুলের গোড়ার ব্রণ কমাতে নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং সঠিক হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা অপরিহার্য। হালকা শ্যাম্পু এবং মাথার ত্বকের জন্য উপযুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। চুলকানো বা জোর করে চুল টানা থেকে বিরত থাকুন।
আরও পড়ুন : রাতে দেরিতে খাওয়া কি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াচ্ছে? একজন ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন
যদি ব্রণ থেকে যায় বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন। নিয়মিত মাথার ত্বক পরিষ্কার করে তেল এবং ময়লা দূর করা, আলতো করে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করা এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান করাও সাহায্য করতে পারে।
সুস্থ চুলের জন্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- নিয়মিত চুল ধুয়ে পরিষ্কার করুন।
- হালকা এবং ত্বকের জন্য উপযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট বেছে নিন।
- মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন।
- ঘন ঘন চুলকানো বা চুল টানা থেকে বিরত থাকুন।
- পুষ্টিকর খাবার খান এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।