খাবার বাদ দিলে কি ওজন কমে? গবেষণা কি বলছে, জেনে নিন

ওজন কমানোর জন্য অসংখ্য পদ্ধতি রয়েছে, যার মধ্যে অনেকেই সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তবে, সবচেয়ে প্রচলিত উপায়টি হলো খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া কিংবা খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই পদ্ধতিটি আপনার শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে? এই নিবন্ধে আমরা ঠিক এই বিষয়টি নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব।

4 Min Read

ওজন কমানো মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়—এটি এক প্রকার চ্যালেঞ্জই বলা চলে। আজকাল মানুষ ওজন কমাতে নানা ধরণের ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস মেনে চলে, নিয়মিত শরীরচর্চা করে এবং কেউ কেউ তো খাওয়া-দাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার মতো চরম পদক্ষেপও নিয়ে ফেলে। অনেকেরই ধারণা যে, কোনো বেলার খাবার বাদ দিলে বা না খেলে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব। যদিও শুরুর দিকে এই পদ্ধতিতে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। মানুষ প্রায়ই এমনটা ভেবে নেয় যে, যদি তারা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়—কিংবা খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়—তবে তাদের ওজন দ্রুত কমে যাবে। শুরুর দিকে হয়তো সত্যিই এমনটা মনে হতে পারে; এমনকি কয়েক কিলোগ্রাম ওজন কমেও যেতে পারে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে এই পদ্ধতিটি আর কার্যকর থাকে না।

শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখতে হলে বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। কিন্তু যখন কেউ কোনো বেলার খাবার বাদ দেয় কিংবা খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, তখন শরীর পুষ্টিহীনতায় ভুগতে শুরু করে; আর এর ফলে শরীরে নানাবিধ স্বাস্থ্যগত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। আপনিও যদি ওজন কমানোর লক্ষ্যে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার—কিংবা খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার—কথা ভেবে থাকেন, তবে এই নিবন্ধটি আপনার জন্যই লেখা হয়েছে। চলুন, এবার আমরা খতিয়ে দেখি যে, ওজন কমানোর জন্য খাবার বাদ দেওয়াটা আসলেই সঠিক পদ্ধতি কি না।

ওজন কমানোর জন্য খাবার বাদ দেওয়াটা কতটা যুক্তিসঙ্গত?

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে খাবার বাদ দেওয়া বা না খাওয়াটা নিঃসন্দেহে একটি প্রচলিত কৌশল। তবে, গবেষণায় দেখা গেছে যে—ওজন কমানোর জন্য এটি যেমন সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি নয়, তেমনি এটি সবসময়ের জন্য কার্যকরও নয়। NCBI (National Center for Biotechnology Information)-এর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে, যখন কেউ এক বা একাধিক বেলার খাবার বাদ দেয়, তখন তাদের মোট ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ঠিকই কমে যায়; কিন্তু একই সাথে তাদের খাদ্যের সামগ্রিক পুষ্টিগুণও ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। বিশেষ করে, ফলমূল, প্রোটিন এবং শরীরের জন্য অপরিহার্য অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের গ্রহণমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। যদিও এর ফলে কিছুটা ওজন কমতে পারে, কিন্তু শরীর তার প্রয়োজনীয় ও অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।

অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে

কিছু কিছু ক্ষেত্রে, এই পদ্ধতিটি হিতে বিপরীত বা সম্পূর্ণ উল্টো ফলও বয়ে আনতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি সকালের নাস্তা বাদ দেয়, তবে দুপুরের খাবারের সময় তার ক্ষুধা তীব্র আকার ধারণ করে; আর এর ফলে শেষমেশ সে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি খাবার খেয়ে ফেলে। একইভাবে, যদি তারা দুপুরের খাবার বাদ দেয়, তবে সন্ধ্যার দিকে তাদের মধ্যে খাবারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ দেখা দেয়—যার ফলে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন : রোদে বেরলেই কি আপনার মাথাব্যথা শুরু হয়? জেনে নিন এর কারণ

মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে

কিছু গবেষণায় এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, স্বল্পমেয়াদী উপবাস বা না খেয়ে থাকা মেটাবলিজমকে সামান্য কিছুটা ত্বরান্বিত করতে পারে। তবে, দীর্ঘ সময় ধরে খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকা প্রকৃতপক্ষে বিপাকের হারকে ধীর করে দিতে পারে। যদিও স্বল্পমেয়াদী সুফলগুলো দৃশ্যমান হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাবগুলো অনিবার্য।

কিছু ক্ষেত্রে ওজন বেড়েও যেতে পারে

গবেষণায় দেখা গেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে খাবার বাদ দেওয়া বা না খেয়ে থাকা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বৃদ্ধি এবং পেটের চর্বি জমার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর ফলে, ওজন কমার পরিবর্তে বরং ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। সারকথা হলো, কার্যকরভাবে ওজন কমানোর মূল চাবিকাঠি খাবার বাদ দেওয়া নয়, বরং একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা।

Share This Article