Table of Contents
আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে আপনি সাধারণত আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য ব্লাড সুগার পরীক্ষা করান। মাঝে মাঝে, আপনি প্রতি কয়েক মাস অন্তর HbA1c পরীক্ষাও করাতে পারেন। এই পরীক্ষাগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা সম্পর্কে তথ্য দিলেও, এগুলো আপনার স্বাস্থ্যের একটি সম্পূর্ণ চিত্র দেয় না। ডায়াবেটিস রোগীদের অন্তত একবার C-Peptide পরীক্ষা করানো উচিত। এটি বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যাদের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে নেই, যারা বারবার ওষুধ পরিবর্তন করেন, কিন্তু তারপরও কোনো স্বস্তি পান না। C-Peptide পরীক্ষা কি? এটি কেন করা উচিত? লেডি হার্ডিঞ্জ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের পরিচালক ও অধ্যাপক ডঃ এল.এইচ. ঘোটেকর ব্যাখ্যা করেছেন।
C-Peptide পরীক্ষা কি?
ডঃ ঘোটেকর ব্যাখ্যা করেন যে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে হয় ইনসুলিন একেবারেই তৈরি হয় না, অথবা এটি অপর্যাপ্ত বা অতিরিক্ত পরিমাণে তৈরি হয়। যখন অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরি করে, তখন একই প্রক্রিয়ায় একটি প্রোটিনও তৈরি হয়। একে C-Peptide বলা হয়। আপনার রক্তে এই প্রোটিনের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য C-Peptide পরীক্ষা করা হয়।
এই পরীক্ষাটি ডাক্তারদের বুঝতে সাহায্য করে যে অগ্ন্যাশয় কতটা ইনসুলিন তৈরি করছে। যদি এটি একেবারেই তৈরি না করে, বা খুব কম বা খুব বেশি তৈরি করে, তবে এটি ডায়াবেটিসের ধরন নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। এটি শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি আছে কিনা বা ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে কিনা, তা নির্ধারণ করতেও সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য C-Peptide পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই পরীক্ষার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এটি বোঝার জন্য, যদি এই পরীক্ষায় C-Peptide এর মাত্রা খুব কম থাকে, তার মানে অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরি করছে না। এটি নির্দেশ করে যে রোগীর টাইপ ১ ডায়াবেটিস হতে পারে। অন্যদিকে, যদি সি-পেপটাইডের মাত্রা বেশি থাকে, তার মানে শরীর ইনসুলিন তৈরি করছে, কিন্তু এটি সঠিকভাবে কাজ করছে না।
আরও পড়ুন : চুলে ডিম লাগানোর পর গন্ধ থেকে যায়; চুল ধোয়ার সময় এটি আপনার শ্যাম্পুর সাথে মিশিয়ে নিন।
এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিসের একটি ইঙ্গিত। এই পরীক্ষাটি নির্ধারণ করতেও সাহায্য করে যে রোগী ওষুধের মাধ্যমে তার অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে নাকি তার ইনসুলিন নেওয়া শুরু করা প্রয়োজন, কারণ অনেক রোগী অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন উৎপাদন প্রায় বন্ধ হয়ে গেলেও দীর্ঘকাল ধরে ট্যাবলেট খেতে থাকেন।
এই পরীক্ষাটি কখন করা উচিত?
- ওষুধ সেবনের পরেও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে
- ঘন ঘন রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে
- ডায়াবেটিসের ধরন অস্পষ্ট হলে
- রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে অসুবিধা হলে