ওয়েব ডেস্ক: কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে আদতে ক্ষতিই হয়েছে বামেদের। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে উঠে এলো আই তত্ত্ব। শুক্রবার থেকে নয়াদিল্লীতে শুরু হয়েছে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক। আগামী লোকসভা নির্বাচনে পার্টির রাজনৈতিক রণকৌশলের লাইন নিয়েও আলোচনা হয় এই বৈঠকে।
একুশের নির্বাচনে পরও কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক ডেকে বেঙ্গল লাইনের মুণ্ডপাত করা হয়েছিল। তখন অবশ্য সংযুক্ত মোর্চার জোট ছাড়ানোই লক্ষ্য ছিল। বাংলায় জোট করেই ভরাডুবি হয়েছিল বলে তাঁদের দাবি। তাই সীতারাম ইয়েচুরিকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ভোট শেষ, জোট শেষ। যদিও পাল্টা বাংলার নেতৃত্বের দাবি, প্রতিটি রাজ্যের আলাদা ভাবনা। দক্ষিণ ভারত দিয়ে গোটা দেশের পরিস্থিতি বিচার হয় না। বৈঠকের শুরুতেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে ‘জোট’ নিয়ে তরজা শুরু হয়েছিল।
প্রকাশ কারাট এবং পিনারাই বিজয়নেরা কখনই বঙ্গ বিজেপির এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারেননি। ২০২১ এর জোট করেও কোনও লাভ হয়নি, বরং আজ আসন ছিল সেটিও হারিয়েছে দল, এমনটাই মত কেন্দ্রীয় কমিটির। এর ফলে রাজ্যে দলের ভাবমূর্তি যেমন নষ্ট হয়েছে তেমন এর প্রভাব সর্বভারতীয় স্তরেও পড়েছে।
মোদী সরকার কোভিড ভ্যাক্সিনেশন পরিসংখ্যানে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে: অধীর
এরপরই বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে সিপিআইএমের অবস্থান ঠিক করাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস–তৃণমূল কংগ্রেস থাকলে বিজেপি বিরোধী জোটে সিপিআইএম যাবে কিনা তা নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে কোন রণনীতিতে এগোবে সিপিআইএম এখন সেটাই চর্চার বিষয় ছিল। যদিও বিমান বসু বলেছিলেন, সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে বিজেপি বিরোধী ক্ষেত্রে কারও সঙ্গে যেতে আপত্তি নেই।
বিধানসভা উপনির্বাচনে শান্তিপুর কেন্দ্রে এবার জোর টক্কর দিতে পারে বামেরা
আগামী বছর এপ্রিলে কেরলের কান্নুরে হতে চলেছে সিপিএমের ২৩তম পার্টি কংগ্রেস। জানুয়ারি মাসে শেষ কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক বসবে। এখন তিনদিনের বৈঠকে পার্টির রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক খসড়া প্রস্তাবের বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে সিপিএম সম্ভবত এবার চাইছে দলের পার্টি লাইনেই বদল আনতে। সীতারাম ইয়েচুরির বদলে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে পারে বদল, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।