ওয়েব ডেস্ক: বরাবরই বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি। যদিও বিধানসভা ফলের নিরিখে দেখতে গেলে বামেদের অবস্থান এখন তৃতীয় স্থানে। সারা রাজ্যের মত শিলিগুড়িতেও পৌরসভার ভোট হয়নি। তবুও দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সব পক্ষই। রাজ্যে ২০১১ তে পরিবর্তনের পরও শিলিগুড়ি নিজেদের দখলেই রেখেছিল বামেরা।
প্রবীণ নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী, মেয়র অশোক ভট্টাচার্যকেও হার মানতে হয় একদা “শিষ্য” শঙ্কর ঘোষের কাছে। পুরসভা নির্বাচনে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বামেরা। এই প্রশ্ন অশোক বাবু কে করা হলে তার সোজাসুজি জবাব, “আমরা মরে যাইনি। বেঁচে আছি। লড়াইটা সহজ নয়। তবে লড়াই করতে হবে। লড়াই করেই জিততে হবে।”
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের মুখে সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শঙ্কর ঘোষ। টিকিট পেয়ে ৫০ শতাংশের বেশী ভোট পেয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর দলবদলের পর বাম শিবিরে তেমন ভাঙন ধরা না পড়লেও বাম ভোট গিয়ে পড়েছে রামে।
কম বয়সীদের দলে আরও জায়গা দিয়ে সামনের সারিতে আনতে হবে, বললেন Gautam Deb
শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের কথাতে, শিলিগুড়ি আর ফিরে পাবে না বামেরা। নেতৃত্বের অভাবেই ভরাডুবি হবে। দ্রুত নির্বাচনের ডাক দিয়ে মূলত বেহাল পুর পরিষেবা এবং কোভিড টিকা নিয়ে শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদারের পথে বিজেপি। দ্রুত পুরসভা অভিযানও করবে। তাঁর দাবী, বিজেপির সমর্থন কয়েকগুণ বেড়েছে। তৃণমূল বিরোধী ভোটও পাবে বিজেপি। আর তাই এবারে লোকসভা, বিধানসভার পর লক্ষ্য শিলিগুড়ি পুরসভা। টিকা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বামেরাও। অযথা হয়রানি করা হচ্ছে শহরবাসীকে। পুরসভা অভিযানের ডাক দিয়েছে বামেরাও। চলতি মাসেই অভিযান হবে। বিজেপিকে ভোট দিয়ে মানুষ ভুল বুঝতে পেরেছে। তৃণমূলের বিকল্প বিজেপি নয়। তাই বামেরাই যে বিকল্প তা ভোটাররা বুঝতে পেরেছে। পুরভোটে তার ফল মিলবে বলে মনে করেন অশোকবাবুরা।
কলকাতা পুরসভার নামে ফের প্রতারণা, একেবারে নিয়োগ পত্র নিয়ে হাজির প্রার্থীরাই
অন্যদিকে এখন পুরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন তৃণমূল নেতারা। গৌতম দেবকে প্রশাসক করে চার সদস্যের প্রশাসক মণ্ডলী করা হয়েছে। যা নিয়ে বিরোধীরা সরব হলেও গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। গত ১০ বছরের শহরের অনুন্নয়নই হাতিয়ার। সেই-সঙ্গে প্রশাসক হিসেবে উন্নয়নমূলক কাজ করে শহরবাসীর মন জয় করতে মরিয়া তারা। বিরোধী শূন্য পুরসভাই তাদের লক্ষ্য বলে দাবী প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য রঞ্জন সরকারের। যথা সময়ে পুরভোট হবে বলে দাবী করে তিনি বলেন, এককভাবেই পুরসভা দখল করবে তৃণমূল। কোন বিরোধী থাকবে না। পুরসভা দখলের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই বাম শিবিরে ভাঙন ধরিয়েছে তারা। তিন প্রাক্তন বাম কাউন্সিলরকে দলে টেনেছে তৃণমূল। দুই প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলরকেও দলে টেনেছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিলিগুড়ির সার্বিক উন্নয়নকে সামনে রেখে নির্বাচনী ময়দানে নামবে তারা।